শাসক দলের কেষ্টর কাছে শঙ্খ ঘোষ নাকি এলেবেলে কবি!!

আহা এই না হলে কেষ্ট,এই না হলে শাসক রাজনীতির কর্তা ব্যক্তি।কেষ্টবাবু জানিয়েছেন কবি  বলতে তিনি রবীন্দ্রনাথ,নজরুলকে চেনেন,শঙ্খ ঘোষ নামের কোন এক নতুন এলেবেলে,কবি উন্নয়ন নিয়ে কীসব আজেবাজে কবিতা লিখেছেন।কেষ্টবাবু এটাও জানিয়েছেন উন্নয়নের নামে অপপ্রচার করে ঐ নতুন কবি শঙ্খ নামের অপমান করেছেন।অথছ    তাঁর সংবেদনশীলতা কোন দল ও মতের বাঁধনে আটকা পড়েনি কখোন।নকশাল দমনের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন তাঁর কলম গর্জে উঠেছিল,তেমনি বাম শাসনে নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন মানুষ মারা যাবার পর,তাদানিন্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিজয়ী বলে কটাক্ষ করে কবিতা লিখেছিলেন,বলেছিলেন অন্যের জীবন নরক করে বিজয় হাসিল করেছে শাসকদল।গণতন্ত্রের দাবিতে সেদিন যেমন মিছিলে হেঁটেছিলেন,এই মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্যে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধেও ৯০ উত্তীর্ণ শরীর নিয়ে মিছিলে হেঁটেছেন।তাঁকে সমাজের বিবেক বলে মানেন অধিকাংশ বাঙালি,তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে সম্মানিত এদেশের বরিষ্ঠ কবি শঙ্খ ঘোষ।এবার রাজ্যের শাসক দলের তথাকথিত উন্নয়নের প্রচারকে তীব্র কটাক্ষ করে কবিতা লিখলেন।রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে যে হিংসাত্বক ঘটনা ঘটছে,বিরোধীরা মনোনয়োন জমা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন জায়গায় জায়গায়।রাস্তায় মহিলাদের কাপড় খুলে নেওয়া হচ্ছে,চুলের মুঠি ধরে প্রকাশ্যে মহিলাদের রাস্তা দিয়ে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।সে সব দৃশ্য টেলিভিশনের সংবাদে দেখাও যাচ্ছে।প্রশাসন বলছে সামান্য ঘটনা,শাসক দলের নেতারা বলছে উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাই বিরোধীদের হয়ে কেউ ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন না।আর এই সময় দাঁড়িয়ে আবারও শাসক দলের উন্নয়নের প্রচারকে তীব্র কটাক্ষ করে গর্জে উঠল শঙ্খ ঘোষের কলম।সম্প্রতি তাঁর লেখা কবিতার কয়েকটি লাইন এরকম-

যথার্থ এই বীরভূমি-

উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে এসে

পেয়েছি শেষ তীরভূমি।

দেখ খুলে তোর তিন নয়ন

রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে

দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।

এ কবিতা যে রাজ্যের শাসক দলের প্রতি তীব্র শ্লেষ আর বিদ্রুপ প্রসুত,তা বুঝতে কারোর অসুবিধা হচ্ছে না।কবি আবার প্রামাণ করলেন সমাজ ও সভ্যতার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা।এর পরেও শাসকের বিবেক যে কাঁপে নি তা প্রমাম করলেন কেষ্টবাবু।শাসকের রুচি ও শিক্ষারও প্রমাণ দিলেন তিনি।

,