পঞ্চায়েত ভ‍োটের বলি অন্তত ১৬,পুড়ল ব্যালট বাক্স ,এভাবেই চলল‍ো ‘গণতন্ত্রের পুজো’!

ভোট হলে অশান্তি হবে এটা এখন স্বীকৃত রীতি,সেই ধারা মেনে এ রাজ্যে এবার পঞ্চায়েত ভোটে মিডিয়া রিপোর্ট অনুযাযয়ী অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে,আহত বহু।এই তালিকা শুধুমাত্র যেখানে সংবাদ মাধ্যম পৌঁছুতে পেরেছে সেখানকার,এর বাইরে  রাজ্য জুড়ে যে বিস্তৃত পরিসর যে খানে সংবাদ মাধ্যম যায়ই না সেখানকার যে কী হাল তা চিরদিনই অজানার অন্ধকারে ঢাকাই থাকবে।গণতন্ত্রের এই তথাকথিত উত্সবে কলকাতার একেবারে নিকটবর্তী পঞ্চায়েত এলাকা জ্যাংড়ায়,যা কীনা বাগুইহাটি সংলগ্ন এলাকায় সেখানে দেখা গেল ব্যালট বাক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে,দাউ দাউ করে জ্বলছে একের এক ব্যালট বাক্স।হাজার হাজার ব্যালট পেপার ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে খালের জলে।নদিয়ায় শাসক হলের হয়ে বুথ দখল করতে গিয়ে এক যুবক গণপিটুনিতে মারা গেছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে।আর মৃত যুবকের পরিবারের দাবি কিছু টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শাসক দলের নেতারা ওকে বুথ দখল করতে পাঠায়।বেকার যুবক একদিনের রুজিরোজগারের প্রত্যাশায় বুখ দখল করতে রাজি হয়ে জীবনটা হারালো।গণতন্ত্রের এই সামারোহে সংবাদ মাধ্যমও যথারীতি আক্রান্ত হয়েছে,ভাঙড়ে একটি সংবাদ মাধ্যমের গাড়ি ও ক্যামেরা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরাবুল বাহিনীর বিরুদ্ধে।আরাবুল ভাঙড় থানায় বসেই তার দলবলকে নির্দেশ দিয়ে চলেছে বলে জমি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে সোমবারও অভিযোগ করা হয়েছে। ১৬ জনের মৃত্যুর খবর সংবাদ মাধ্যমে এলেও পুলিসের তরফে ডিজি জানিয়েছেন  ভ‍োটের দিন মৃত্যু হয়েছে ১২জনের, যার মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন ভোটের কারণে হওয়া হিংসায়। কমিশন নিশ্চয়ই চেষ্টা করবে মৃতের সংখ্যা ২০১৩র ( ২১) চেয়ে কোনভাবেই বেশি না হয়। কেন না অাদালত তো বলেই দিয়েছে ২০১৩র চেয়ে বেশী মৃত্যু হলে তবেই ক্ষতিপুরণের কথা উঠতে পারে,না হলে নয়। তাই এ রাজ্যের ‘ সংসদীয় গণতন্ত্রপ্রেমীরা’ প্রত্যাশা করতেই পারেন, কমিশন বা পুলিসের তরফে এবারের পঞ্চায়েতে যে মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ হবে,তার আকার ২০১৩র চেয়ে ছোটই হবে।