প্রিসাইডিং অফিসার খুন? ধুন্ধুমার রায়গঞ্জ, এসডিও কে জুতো ছুঁড়লেন ভোটকর্মীরা

পঞ্চায়েত ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সেরে বাড়ি ফেরার পথে করণদিঘির মাদ্রাসা ইস্কুলের শিক্ষক রাজকুমার রায়ের মর্মান্তিক ভাবে খুন করা হয়েছে । এই অভিয‍োগ বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের ভোট কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পরেন। এসডিওকে ঘেরাও করে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন,এসডিওকে মারধোর করার অভিযোগও করা হয়েছে।বিক্ষুব্ধ ভোটকর্মীরা এসডিওকে লক্ষ্য করে জুতো ছুঁড়তে থাকেন।ভোট কর্মীদের এরকম বিক্ষোভে নড়ে চড়ে বসে নবান্ন।নবান্ন থেকে জানানো হয় যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা বাম প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন এবিটিএর সদস্য,তাঁরা কেউ ভোট কর্মী নন। ঐ প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে।তবে মৃত রাজকুমারের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে সোমবার ভোট চলাকালীন রাজকুমারবাবুকে বার বার ফোনে হুমকি দেওয়া হতে থাকে এই বলে যে তিনি যেন বাইরের লোকদের বুথের ভেতরে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেন।তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভোট শেষ হলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।তবে সাহসী রাজকুমার বাবু সে হুমকিতে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁর দায়িত্ব শেষ করেন।ভোট শেষ হওয়ার পর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান রাজকুমার রায়।পরিবার তাঁর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনকে আর্জি জানালেও কেউ প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় নি বলে অভিযোগ।অবশেষে মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ রেল স্টেশন থেকে উদ্ধার হয় রাজকুমার রায়ের ক্ষত বিক্ষত দেহ।মর্মান্তিক নৃশংসতায় খুন করা হয়েছে ঐ শিক্ষককে। মাথা হাত পা থে্তলে মারা হয়েছে।রাজকুমারের ছোট ছোট দুটি ছেলে মেয়ে,স্ত্রী আছে।প্রশাসন খুনের পেছনে রহস্যের কথা বললেও পরিবার ও পরিচিত জন সকলেই বলছেন সততার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই এমন মর্মান্তিকভাবে খুন হতে হোল রাজকুমারকে।বুধবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এই শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ছবি নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া ফেলতে শুরু করে।সমাজের সব স্তর থেকেই ঘৃণা ও ধিক্কার ধ্বণিত হয়।