পঞ্চায়েতের ফলাফলের অাদৌ কি গুরুত্ব আছে?

আমাদের এই পোর্টালের খবর যারা নিয়মিত পড়েন,লাইক করেন,শেয়ার করেন,তাঁদের সংখ্যাটা খুব বেশী নয়,আমরা জানি। আমরা জানিয়েই রেখেছিলাম আমাদের খবর হবে গড়পড়তা খবরের চেয়ে একটু আলাদা। যা একটু অন্যরকমভাবে মানুষকে ভাবাতে ও চিন্তা করতে সাহায্য করবে। যত ছোট আকারেই হোক আমরা আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে সাধ্য মত চেষ্টা করে চলেছি।গড়পড়তা খবরকেও অন্যভাবে বিশ্লেষন করতে চেষ্টা করেছি।আর এই জন্যই একটা নির্দিষ্ট অংশের পাঠক আমাদের তৈরি হয়েছে।তাঁদের কথা ভেবেই একটা বিষয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার তাদিগ অনুভব করছি আমরা। তাঁরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন চ্যানেলে চ্যানেলে ও ওয়েব পোর্টালগুলোতে এ রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল নিয়ে খবর ও লাইভ টক শো চললেও,আমাদের পোর্টালে এ বিষয় কোন খবর প্রকাশ পায়নি। প্রশ্ন উঠবে কেন?সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার তাগিদ থেকেই এই লেখা। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে আমাদের পাঠকদের কাছে।আর অনেকের মতোই আমরা মনে করি এ রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে গণতন্ত্রের নামে দলতান্ত্রীক প্রহসন হয়েছে।৩৪ শতাংশ আসনে যেখানে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পারেন নি,যেখানে ভোটের দিন রক্তের হোলি খেলা হয়,২৩জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে না। যেখানে ভোটের নামে চলে অবাধে ছাপ্পা,ব্যাটল চুরি।যে খানে নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছার দাস। যে খানে একজন শিক্ষক প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পরেও প্রশাসন সক্রিয় হয়ে তাঁকে খুজতে নামে না,তাঁর দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে রেল লাইনের ধারে পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার গল্প সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে,সেখানে পঞ্চায়েতের ফল যে কী হতে যাচ্ছে সবার আগেই জানা ছিল।মিথ্যা আর গা জোয়ারির জয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করার কোন আগ্রহ আমাদের হয় নি। আমরা সেই সব মিডিয়া থেকে নিজেদের আলাদাই রাখতে চাই যারা ভোটের দিন লাগাতার সন্ত্রাস আর ছাপ্পা দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে,প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার নিন্দা করার কয়েক দিন পরেই ফলাফলের দিকে তাকিয়ে নির্দ্ধিধায় বলতে পারে গোটা গ্রাম বাংলায় সবুজ ঝড়ে উড়ে গেল বিরোধীরা। এই চূড়ান্ত ভন্ডামি থেকে আমরা দূরেই থাকতে চাই।আর তা চাই বলেই পঞ্চায়েতের এই ফলকে আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ খবর বলে মনে করি নি।বিভিন্ন জেলায় কার কী অবস্থা তা ছক কষে,তালিকা ধরে ধরে আমরাও প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম,কিন্তু যে ভাবে এ রাজ্যে ভোট হয়েছে,তাতে গুরুত্ব দিয়ে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমাদের মনে হয়েছে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করার সামিল হবে,যে জয় অনৈতিক,ভাওতা,যে প্রক্রিয়ায় লেগে থাকে মানুষের রক্ত,তাঁদের ভয়-অসহায়তা,তাকে তুলে ধরতে আমাদের রুচিতে বেঁধেছে।আমরা তাই এটাকে উপেক্ষা করা উচিত বলেই বিবেচনা করেছি।এ রাজ্যে গণতন্ত্র নিয়ে এই ছেলেখেলা আগের সরকারের আমলেও হয়েছে,আগামী দিনে অন্যকোন সরকার এলে যে তা হবে না তাও মনে করি না আমরা ,তবে আমাদের অবস্থান একইরকম পরিষ্কার ও দৃঢ় রাখতে পারবো আশা রাখি।আমরা অবাক হয়ে দেখলাম যারা নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে বলে সারাক্ষন বলে গেলেন সেই বিরোধীরাও পারলেন না এই প্রহসন থেকে নিজেদের বিযুক্ত করতে।কে পারলেন,কে পারলেন না সে তর্ক দুরে রেখে আমরা বলছি আমরা পারলাম,এবারের পঞ্চায়েতের ফলাফলকে গুরুত্বহীন খবর বলে ঘোষণা করতে।

উপসংহার টানার আগে পঞ্চায়েত ভোটের ফল নিয়ে কয়েকটা মন্তব্য করা জরুরি মনে করছি।প্রহসনের ভোটে শাসক দল তাঁদের শক্তি বৃদ্ধি করলেও,পদ্মের কাঁটা কিন্তু ফুটে গেল তৃণমূলের বুকে।মুখ্যমন্ত্রীর সেই অতিপরিচিত সংলাপ জঙ্গলমোহল হাসছে বলতে এবার কিন্তু বুক কাঁপবে কারণ সেখানে তো অনেক জায়গাতেই পদ্ম ফুটেছে,মুখ্যমন্ত্রীর দাবি সত্যি হলে তো মানতে হয় জঙ্গলমোহলের মানুষ হাসতে হাসতেই তাঁর বুকে ছুঁড়ি মেরেছেন।আর ভাঙড়,সেখানে তো সন্ত্রাস আর হুমকির লাগাতার ব্যবহার করে পুলিশকে দিয়ে ভোট করিয়েও জমি কমিটির ৮ জনের মধ্যে ৫জন জিতে গেল,মানুষের রায় মানলে তো ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড হয় না,তাই না? তবে  শাসকেরা মানুষের কথা কবেই বা শুনেছে!!!