এখনও এরকম মানুষেরা অাছেন বলেই………

ফেসবুকে চন্দন বিশ্বাসের পোস্ট

আমার বন্ধু কৃষ্ণ। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান, ফ্রেঞ্চে ‘ইলেকত্রিসিয়ঁ’। আমি যে অল্পবিস্তর ফ্রেঞ্চ জানি সেটা প্রমাণ করে দিলাম। যাইহোক আমি গরুর রচনা লিখতে বসিনি যে কৃষ্ণর কথা লিখতে গিয়ে আমার ফ্রেঞ্চজ্ঞান নিয়ে বলব। অতএব আসুন আমরা কৃষ্ণনাম করি খানিকক্ষণ।

কৃষ্ণ গাছ লাগায় নিয়ম করে। আমার মত বার্ষিক এক-দুটো গাছ লাগিয়ে, ‘আমি কি হনু হইলাম’ এই আত্মপ্রসাদে বাজারে মাংস কিনতে ছোটে না। নিয়ম করে মানে প্রতিদিন, সকাল বিকেল, যেখানে সেখানে। তবে দেশী গাছ। দু বছরে ধাইধাই করে বেড়ে উঠে একদিনের ঝড়ে ভেঙে পড়া কলকাতা করপোরেশনের গাছ নয়। আগমার্কা দেশী গাছ।

কথা বলতে ভাল লাগে কৃষ্ণর সঙ্গে। কত অদ্ভুত তথ্য পাওয়া যায়। কতবার রাস্তার পাশে ওর লাগানো গাছ বারাসাত পৌরসভা, ইলেকট্রিক অফিস কেটে দিয়ে গেছে। তবু হাল ছাড়েনি। গোয়ারের মত গাছ লাগাবেই। ভারতে রাস্তার পাশে, পাবলিক প্লেসে গাছ লাগানো নিয়ে আইনের শেষ নেই, কিন্তু গাছ কাটার জন্য অত আইন নাই।

কৃষ্ণ বারাসাতের সরকারী বেসরকারী স্কুলগুলিতে গাছ লাগানোর চেষ্টায় আছে। অনেক স্কুলে গাছ লাগিয়েছে কিন্তু শিক্ষাকর্মীদের দায়বদ্ধতার অভাব আছে বলে খুব দুঃখ করে। বেশীরভাগ গাছের কোনো যত্ন হয় না, মারা যায়।

কৃষ্ণর বাড়িটা স্বর্গ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘দাতব্য গাছ বিতরণ কেন্দ্র’ আগে দেখেছেন? আমি দেখিনি। কার কার ক্ষমতা আছে বাড়ির সামনে এমনি একটি বোর্ড লাগানোর? একটু পাশে থাকুন কৃষ্ণর। শুধু গাছ লাগানোর জায়গাটা দেখিয়ে দিন। গাছ লাগাবে কৃষ্ণ, একটা বছর বেড়া দিয়ে সামান্য জল দিতে পারবেন না?

‘তুমি না আসিলে, ভালো না বাসিলে
কে আর ভাঙাবে রাধার মান?’

(কৃষ্ণর কথা অনেকদিন ধরেই বলব ভাবছি, কিন্তু আমার মত অলস মানুষের ভাবনা ও কাজে পার্থক্য থাকে। আজ কৃষ্ণর প্রবল আপত্তি অগ্রাহ্য করে পোস্ট দিয়ে আপনাদের উদ্ধার করা হল।)

ফেসবুকে চন্দন বিশ্বাসের পোস্ট