নন্দীগ্রাম-ভাঙড়- তুতিকোরিন, শাসক আলাদা , ভাষা এক

প্রজা পীড়নই শাসকের ভাষা। শাসকের রঙ আলাদা হতে পারে,শসকের শাসনক্ষেত্র আলাদা হতে পারে,এমনকি শাসকের পতাকার রঙও পৃথক হতে পারে,শেষ বিচারে তারা শাসক,তাই সবাই এক ভাষাতে কথা বলে।তাই তো তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে স্টারলাইট কপার কারখানা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় প্রতিবাদী মানুষের উপর গুলি চালাতে এতটুকুও হাত কাঁপেনি সেখানকার পুলিশ কর্তাদের।১৩জন মানুষ বেঘোরে মারা গেছেন।আহত প্রায় ৮০জনেরও বেশী।প্রশাসন বলছে পুলিশ বাধ্য হয়েছে গুলি চালাতে।এমনটাই তো বলে থাকেন তারা।নন্দীগ্রামে ১৪জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করার পর তখনকার এ রাজ্যের বাম সরকারও তো বলেছিল পুলিশ বাধ্য হয়েছে গুলি চালাতে।সেই মানুষগুলোও তো জমি বাঁচাতে,পরিবেশ বাঁচাতে প্রতিরোধে নেমেছিল।আর সেই নন্দীগ্রামের প্রতিরোধ প্রতিবাদ আন্দোলনকে হাতিয়ার করে যারা এ রাজ্যের মসনদ দখল করেছে,এ রাজ্যের বর্তমান সরকার ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বসাতে এতোটাই উদগ্রীব ষে ভাভড়ে জমি জীবিকা নিয়ে আন্দোলন করা মানুষগুলোর দিকে প্রতিদিন আক্রমণের নানা কৌশল নিয়ে চলেছে।গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দুজনকে।সরকার না মানতে চাইলেও সবাই জানেন পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ভাঙড়ের দুই আন্দোলনকারীর।সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত ভোটের আগের দিন শাসকের আশ্রিত আরাবুল বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে ভাঙড়ের ২৬ বছরের এক তরুণ হাফিজুল মোল্লা।সময় পাল্টায়,পতাকার রঙ পাল্টায়,স্থানও পাল্টায় কিন্তু শাসকের চেহারা পাল্টায় না।বিরুদ্ধ কন্ঠকে থামিয়ে দিতে বার বার গর্জে ওঠে শাসকের রাইফেল।গণতান্ত্রীক দেশে কেন এভাবে সরকারি প্রশাসনের গুলিতে মারা যাবে সাধারণ মানুষ?কেন কোন শাসক শাস্তি পাবে না?এমনটা যদি ধারাবাহিকভাবে ঘটেই চলে আমরা তো প্রশ্ন তুলতেই পারি,এ কেমন গণতন্ত্র,যেখানে সরকার নির্দ্ধিধায় সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করতে পারে?এ দেশের গণতন্ত্র যে স্রেফ ভোটসর্বস্ব তা কি আর কারোর বুঝতে বাকি আছে!সেই জন্যইতো এখন তামিলনাড়ুতে ডিএমকে,কংগ্রেস ঘটনার নিন্দা করছে,এতদিন তারা সব কোথায় ছিলেন,ভোট আসছে তাই এতগুলো মানুষের মৃত্যুর ফায়দা তুলতে বাজারে নেমে পড়েছেন তারা।এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও নাকি তুতিকোরিনের ঘটনার নিন্দা করেছেন।হায় রে ভোট,হায়রে ক্ষমতার লিপ্সা!!ক্ষমতার মদমত্ততা বোধহয় কাউকে কাউকে এতটাই বেহায়া করে তুলতে পারে যে নিজের চেহারাটা নিজেই চিনতে পারেন না,তা হলে ভাঙড়ে যিনি প্রতিদিন প্রশাসনকে লেলিয়ে দিয়ে পরিবেশ আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগে রয়েছেন,তিনি কোন নৈতিকতায় তুতিকোরিনে পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত মানুষের জন্য সহানুভূতি দেখাতে পারেন?আসলে এর নাম রাজনীতি,এর নাম ক্ষমতার ব্যবসায়ী।তবে আমাদের কাছে একটা বিষয় পরিষ্কার নন্দীগ্রাম,ভাঙড় আর তুতিকোরিন একবিন্দুতে এসে মিলে প্রমাণ করে দিচ্ছে যতোই গণতন্ত্র প্রজাতন্ত্র বলা হোক না কেন রাষ্ট্র আছে সেই তার সাবেকী মেজাজেই,যে রাষ্ট্র সম্পর্কে বাংলাদেশের কবি শহিদ কাদরীর বলেছিলেন-…….ধাবমান খাকি,জিপের পেছনে মন্ত্রীর কালো গাড়ি,কাঠগড়া,গরাদের সারি সারি খোপ,কাতারে কাতারে রাজবন্দী অথবা……রাষ্ট্র বললেই মনে হয় মিছিল থেকে না ফেরা কনিষ্ঠ সহোদরের মুখ।আমরা মনে করতে পারি কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই কথা,- রাজা আসে রাজা যায়,শুধু পোষাকের রঙ বদলায়,শুধু মুখোশের ঢঙ বদলায় দিন বদলায় না……।দিন যে বদলায় না তা বোধহয় এরাজ্যের মানুষ এতদিনে বুঝে গেছেন,তামিলনাড়ুর মানুষও বুঝবেন আসা করা যায়।