পেট্রল -ডিজেলকে GST এর অাওতায় অানলেই কি দাম কমবে?

র‍োজই একটু একটু করে বাড়ছে জ্বালানী তেলের দাম। নাজেহাল অামজনতা। ইস্যুটি অবহেলা করা যাবে না বুঝেছে মিডিয়াও। তাই রোজই অালোচনা, লেখালেখি। কম বেশি সকলেই জেনে গেছেন পেট্রল ডিজেলের দামের মধ্যে একটা বড় অংশই রয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের কর। পেট্রলে কেন্দ্রের কর লিটার পিছু প্রায় ১৮-১৯ টাকা। রোজ বদলাচ্ছে। রাজ্যের চাপান ভ্যাটও প্রায় ১৬ -১৭টাকা( বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাটের হার ভিন্ন) অনেকেই দাবি তুলেছেন প‍েট্রল ও ডিজেলকে জিএসটির অাওতায় অানতে হবে। তাহলে কর কমে যাবে অনেকটা। দামও কমবে। এই যুক্তিটা অর্ধসত্য। gst  এর অাওতায় পেট্রপণ্যকে অানলে অাপতত কিছুটা দাম  কমবে ঠিকই কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে পেট্রল বা ডিজেলের দাম এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।  তাই যদি হতো তাহলে যখন অান্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি ৪০-৪৫ ডলারদাম ছিল সেই সময় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা যেত নাকি?  বিশ্ববাজারে কতটা তেল উত্পাদন হবে তা ঠিক করে অামেরিকা সহ শক্তিধর দেশগুলির জোট। তেলের বেচা কেনার উপরও প্রভাব খাটায় তারা। দাম নিয়ন্ত্রণ করতে চাপও সৃষ্টি করা হয়। সেই সঙ্গে অামাদের দেশে নিজস্ব তেল উত্পাদনে ওএনজিসি সহ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে পঙ্গু করে রাখা, তেল উত্পাদনে বেসরকারি বিনিয়োগের নামে মুকেশ অাম্বানির রিলায়েন্সকে যা খুশি তাই করতে দেওয়া,(ওএনজিসির  ৩০ হাজার কোটি টাকার গ্যাস চুরি করলেও বা সরকারি লাইসেন্সের নিয়ম ভেঙে রিলায়েন্স গ্যাস উত্তোলন করলেই সরকার নীরব থাকে) এ সবের জেরেই দেশের তেলের জোগানকে বিশ্ব বাজারের মুখাপেক্ষি করে রাখা হয়েছে।  তাছাড়ার মার্কিন চাপের মুখে পড়ে ভারত- ইরান ( অপেক্ষাকৃত সস্তার )গ্যাস পাইপ লাইনের বিষযয়টি নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। মার্কিন চাপের মুখে পড়ে ইরান থেকে তেল অামদানিও এক সময় যথেষ্ট কমিয়ে দিয়েছিল ভারত। যদিও তেলের দাম ডলারের পরিবর্তে টাকায় পরিশোধের সুযোগ দিতে রাজি ছিল ইরান। তাই  এক -দু টাকা দাম কমালেই  বা পেট্র পণ্যকে জিএসটির অাওতায় অানলেই এর দাম বাড়ার প্রবণতাকে ঠেকানো যাবে না, বুঝতে হবে তেল নিয়ে দেশি ও অান্তর্জাতিক রাজনীতিকে। যত তাড়াতাড়ি তা বুঝতে চাইবো ততই ভাল।