ফের খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হল বিজেপি কর্মীকে? খুনোখুনি করেও তবে অহিংস থাকা যায়!

পর পর দুটো খুন,মাঝখানে মাত্র ৩দিনের ব্যবধান।কী নির্দয়,কী ভয়াবহভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দুজন মানুষকে। বৃহস্পতিবার সকালে খবরের কাগজ জুড়ে প্রথম পাতায় পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লকে ১৮ বছরের ত্রিলোচন মাহাতোর ঝুলন্ত নিথর দেহের ছবিতে দেখা গেছে তাঁর গেঞ্জীতে লেখা সতর্কবার্তা-১৮ বছর বয়সে বিজেপি করায় এমন শাস্তি পেতে হোল তাঁকে। আর তার ৩দিনের মধ্যেই পুরুলিয়ারই ঐ একই থানা এলাকায় ইলেকট্রিক টাওয়ারে ঝুলতে দেখা গেল বছর তিরিশের দুলাল কুমারের নিথর দেহ।এমন ভায়াবহ মৃত্যু নিয়েও যথারীতি শুরু হয়ে গেছে পরিচিত রাজনৈতিক চাপানউতোর।বিজেপি নেতারা দাবি করছেন পুরুলিয়ায় তাদের পঞ্চায়েত ভোটে ভাল ফল হওয়াতেই এই সন্ত্রাসের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাইছে শাসক তৃণমূল।আর যথারীতি তৃণমূল সে অভিযোগ খন্ডন করে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নষ্টের জন্য বিজেপির দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ট্যুইট করে জানাচ্ছেন শুধুমাত্র রাজ্যের শাসক বিরোধী মতাদর্শের কারণে এমন নির্মম ভাবে খুন হতে হচ্ছে তাঁদের কর্মী সমর্থকদের।রাজ্য বিজেপি নেতারা তীব্র কটাক্ষ করে এ রাজ্যের সাংসদ অভিযেক বল্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের যুবরাজ বলে অভিহিত করে অভিযোগ তুলছেন-যেহেতু যুবরাজ প্রকাশ্য জনসভায় দাবি করেছেন তাঁর পুরুলিয়া সফরের আগেই ঐ জেলাকে বিরোধী শূণ্য করা হবে,সেই কাজই করছে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা।রাজনৈতিক দলগুলোর এই চাপানউতোর দেখতে আমরা অভ্যস্ত,আমরা এটাও জানি রাজক্ষমতা প্রাপ্তির এই তরজা চলছে চলবেও।আমাদের শুধু প্রশ্ন,রাজায় রাজায় যুদ্ধে আর কত উলুখাঁকড়াদের প্রাণ দিতে হবে?এ রাজ্যের শাসন ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকুক বা গেরুয়া বাহিনীর,তাতে ত্রিলোচন মাহাতো বা দুলাল কুমারদের জীবনের বর্ণমালাতে কি নতুন কোন রঙ পড়তো?পড়তো না,পড়েনি।৩৪ বছরের বাম শাসনে জঙ্গলমোহল যে বঞ্চনার ইতিহাস গেঁথেছিল,সেই ইতিহাস যে পাল্টায় নি পরিবর্তনের জামানাতেও তাতো জঙ্গলমোহলই জানিয়ে দিল।তাহলে কেন বার বার রাজা তৈরির খেলায় মেতে জীবন দেয়,ত্রিলোচন দুলাল কুমাররা!!!আসলে ওদের কোন উপায় নেই,ওরা বোধহয় অসহায়।হয়তো বা তথাকথিত এই গণতন্ত্র ওদের নিজের মত বাঁচার অধিকারটাও ছিনিয়ে নিয়েছে।তাই রাজা রাজায় যুদ্ধে ওরাই বলিপ্রদত্ত বলে স্বীকৃত।ওদের নিথর দেহগুলোই রাজতৈতিক নেতাদের রাজ ক্ষমতা প্রাপ্তির সিঁড়ি হয়ে উঠতে থাকে,যেমন নন্দীগ্রামের ১৪জন মানুষের লাশ মমতার ক্ষমতা প্রপ্তির সিঁড়ি বলে আজ প্রমাণিত।এই রাজনীতির খেলা বন্ধ হোক,বন্ধ হোক গণতন্ত্রের নামে এই খুনোখুনি।রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যারা নিয়ম করে হিংসা আর খুনের অভিযোগ করেন,তাঁরা ভেবে দেখুন নির্বাচনে লাগামহীন খুন সন্ত্রাস,আর রাজনৈতিক কর্মীদের এমন নির্মম খুনের ঘটনার পরেও কোন যুক্তিতে,কোন নৈতিকতায় আপনারা নিজেদের অহিংস শান্তির রাজনীতির প্রবক্তা বলে দাবি করবেন??ত্রিলোচন দুলাল কুমাররা কোন রাজনীতি করতেন আমরা জানি না জানার দরকার নেই,আমরা এটুকু জানি ওরা গরিব মানুষ ছিল,এমন নির্মম মৃত্যু ওদের কাম্য ছিল না।