সব পথ দুর্ঘটনা নয় সমান!

রবিবার বিলাস বহল ফেরারি গাড়ি দূর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে কলকাতার এক ব্যবসায়ীর।এই ঘটনায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের ট্রাফিক বিভাগ।দুর্ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি গাড়ির ফরেন্সিক রিপোর্ট তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রশাসন।মিড়িয়া জুড়ে গত দুদিন ধরে প্রচারের পর প্রচার। সাড়ে চার কোটি টাকার ফেরারি গাড়ির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে কে কত বেশী তথ্য উপস্থিত করতে পারে যেন তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে মিডিয়া জুড়ে। দুর্ঘটনায় মৃত ব্যবসায়ী শিবাজী রায়ের বাড়িতে আর কত বিলাস বহুল গাড়ি রয়েছে,তার দামের তালিকা সহ প্রকাশ করা হচ্ছে একের পর এক প্রতিবেদন। শিবাজিবাবুর  বিলাস বহুল গাড়ি আসক্তিকে মহিমান্বিত করে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক,মৃতের পরিবার ভয়াবহ যন্ত্রনার মুখে দাঁড়িয়ে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবু আমরা বলবো, এদেশের হাইওয়েতে ১৪০ কিমি গতিবেগে গাড়ি চালানো মানে,একপ্রকার মৃত্যুকেই আহ্বান করা নয় কি ? কারোর বোধহয় এরকম অহেতুক দুঃসাহসী হয়ে ওঠার নেশা থাকে,তার মূল্য তাদেরই দিতে হয়।এই মাঝবয়সী ব্যবসায়ীর মৃত্যু খুবই দুঃখজনক এটা মেনে নিতে আমাদেরও কোন আপত্তি নেই।তবু এর পরেও আমরা কিছু প্রাশঙ্গিক প্রশ্ন তুলতে চাইবো,প্রশাসন,মিডিয়ার এতটা সক্রিয়তা তখন কোথায় থাকে যখন রাস্তায় প্রায় নিয়ম করে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা য়ান সাধারণ মানুষ।পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেই বোঝা যায় পথ দূর্ঘটনায় মারা যাওয়ার হার বেড়েই চলেছে।কেন ট্রাফিক বিভাগ তা নিয়ে সক্রিয় হয় না। তারা বেআইনি গাড়িকে কেস দিয়ে টাকা তুলতে যতটা সক্রিয় তার সিকিভাগও ভাবেন না সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে। ফেরারি গাড়িতে সওয়ার হয়ে মৃত্যু নিয়ে এত তোলপাড়,অথচ রাস্তায় বেড়িয়ে যে সাধারণ মানুষটার আর কেনদিন বাড়ি ফেরা হয় না,সে কাগজের ভেতরের পাতায় এককলম জায়গা পায়,অথবা পায় না,এরকম মৃত্যু নাগরিক জীবনে কোন রেখাপাত করে না। অথচ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর যে লম্বা তালিকা সেখানে চোখ রাখলেই মালুম হবে,সাড়ে চার কোটি টাকার ফেরারি গাড়িতে চেপে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন মাত্র কয়েকজনই।তবে কেন প্রশাসন শুধু এরকম দুর্ঘটনার পরেই সক্রিয় হয়,কেন অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা প্রায় থাকে না বললেই হয়।আর মিডিয়া ফেরারি গাড়ির দুর্ঘটনা নিয়ে এত কথা,এত আলোচনা,কেন এ রাজ্যের ট্রাফিক বিভাগের সামগ্রিক ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলে না।কেন দিনের পর দিন ঘটতে থাকে পথ দূর্ঘটনা,  শহরের চার রাস্তার মোড় গুলো কেন অাজও একটা মৃক্যু ফাঁদ?  কেন কোন সুরাহা মেলে না?এ প্রশ্নের কোন উত্তর বড় মিড়িয়া কখোন খোঁজার চেষ্টা করে না। আসলে সাধারণ মানুষের জীবনের দাম তো খুব কম,তাই বোধহয় সে বিষয়ে ভাবার ও ভাবাবার দায় কেউ নিতে চায় না। তবে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়েও মিডিয়াকে ভাবতে হয়,গুরুত্ব দিতে হয়,সেটা যখন, সাধারণ কোন মৃত্যুতে জনসাধারণই সম্মিলিত প্রতিবাদ ও প্রতিরেধে এগিয়ে আসে। যেমন এসেছিলেন বেশ কয়েক মাস আগে বাইপাসে চিংড়িঘাটা মোড়ে  দুই কলেজ পড়ুয়ার গাড়িতে চাপা পড়ে মৃত্যুর পর।সেদিন সেই দূর্ঘটনার পরে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিরোধে গোটা শহর স্তব্ধ হয়ে গেছিল,মিডিয়া বাধ্য হয়েছিল সেই প্রতিরোধের প্রচার করতে। সরকার বা প্রশাসন শুধু সেভ ড্রাইভ সেভ লাইভ শ্লোগান দিয়েই খালাস। তবে ফেরারির সওয়ারিদের জন্য ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অালাদা। তাই সব পথ দুর্ঘটনাও সমান নয়।