ভাগাড় কান্ড থেকে স্বজন পোষণ, পুরকর্তাদের বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক প্রকাশ উপাধ্যায়

২০১৫ র কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে তাঁকে হারাতে সর্বাত্মক প্রয়াস করেছিলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।বেলেঘাটা এলাকার জাদরেল বিধায়ক পরেশ পালকে দাঁড় করিয়েছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে।কংগ্রেসের ওই কাউন্সিলারকে হারাতে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এতটাই মরিয়া ছিলেন যে শোনা যায় তিনি নিজে তাঁদের নেত্রীকে বিশেষ অনুরোধ করে তাঁর বিরুদ্ধে পরেশ পালকে দাঁড় করাবার অনুমতি আদায় করেছিলেন।এও শোনা যায় কংগ্রেসের ওই কাউন্সিলারকে হারাতে পারবো এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই পরেশ পাল কলকাতা পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তাঁর নেত্রীর কাছ থেকে।এখন প্রশ্ন হোল একজন কাউন্সিলারকে  হারাতে এতটা মরিযা কেন হযে উঠেছিল শাসক তৃণমূল কংগ্রেস?কারণ একটাই,ওই কাউন্সিলার প্রকাশ উপাধ্যায় একাই বার বার নাস্তানাবুদ করেছেন পুরসভার শাসক দলকে।সারদার ব্যবসার জন্য একই ঠিকানা থেকে কী ভাবে অতগুলো ট্রেড লাইসেন্স কলকাতা পুরসভা দিল তা নিয়ে নির্দিষ্ট নথি সংগ্রহ করে নিজেই সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন প্রকাশবাবু,যা কিনা সে সময় শোভনবাবুকে যথেষ্ট বিপদে ফেলেছিল।তাছাড়া পুরসভার ভেতরে প্রকাশ উপাধ্যায় একাই নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে শাসক দলকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছেন বার বার।হুমকি বা লোভ কোন কিছু দিয়েই তাঁকে শাসক দলে ভেড়ান যায় নি,এমনই বেয়ারা লোক প্রকাশ উপাধ্যায়।তাই তাঁকে হারাতে চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখে নি শাসক তৃণমূল।কিন্তু তবুও শেয রক্ষা করতে পারে নি তারা।অদম্য লড়াইয়ের জেদ,আর এলাকায় অসম্ভব জনপ্রিয়তায় ভর করে এলাকার কাছের মানুষ ও কাজের মানুষ বলে বিজ্ঞাপিত হওয়া পরেশ পালকে প্রায় ৯হাজার ভোটে হারিয়ে ২০১৫র পুরভোটেও জিতে যান প্রকাশ উপাধ্যায়।এই মূহুর্তে কলকাতা পুরসভাতে প্রকাশ উপাধ্যায়ই প্রধান বিরুদ্ধ স্বর।নারদা থেকে ভাগাড় কান্ড শাসককে নাস্তানাবুদ করে চলেছেন তিনি।শত চেষ্টা করেও তাঁকে থামাতে পারে না শাসক তৃণমূল।তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেও দমাতে পারে নি,বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট তৃণমূল।সংখ্যায় নেহাত নগন্য হয়েও এত জোর,সাহস কোথা থেকে পান তিনি?সাতদিন ডট ইনের মুখোমুখি হয়ে জানিয়ে দেন,সংখ্যা নয় সত্যের প্রতিই তাঁর ভরসা।তাঁর কথায় কারোর থেকে এক টাকাও অনৈতিকভাবে কখনও নিই নি তাই কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলতে তাঁর আটকায় না।প্রসঙ্গক্রমে বর্তমান পুরকর্তাদের দায়হীনতাই যে ভাগাড় কান্ডের পেছনে সক্রিয় তা জানাতে কোন কুন্ঠা নেই প্রকাশ বাবুর।তাঁর মতে কলকাতা পুরসভার একটা দপ্তর রয়েছে খাবারের বিশুদ্ধতা যাচাই করতে,কেন তারা এতদিন চুপ ছিল,কেন কোন ব্যবস্থা নেয় নি?বিষ্ফোরক প্রকাশ উপাধ্যায়ের প্রশ্ন,বরফ কলের কাছে মাংস কাটা হোত বলে জানা যাচ্ছে,তার মানে তো পুরসভার নাকের ডগায় পচা মাংসের রপ্তানি হোত,তাহলে কেন মনে করা হবে না যে আসলে গোটা বিষয়টা পুরসভার একাংশের যোগসাজসেই হোত।প্রকাশ উপাধ্যায় এ বিষয়ে গত পুরঅধিবেশনে মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চেয়েছিলেন,কিন্তু তাঁকে তা আনতে দেওয়া হয় নি।বলা হয়েছে রাজ্য যেহেতু বিষয়চির তদন্ত করছে তাই আলাদা করে আলোচনার দরকার নেই।প্রকাশবাবুর প্রশ্ন কেন রাজ্য সরকার তদন্ত করলে পুরসভায় আলোচনা হবে না,পুরসভার দায় পুরসভা এড়িয়ে যায় কীভাবে?দুমাস কেটে যাওয়ার পরেও কেন এ বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল না,তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রকাশবাবু।প্রকাশবাবুর সাফ কথা প্রশাসনিক মদত ছাড়া কিছুতেই ভাগাড় কান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে না।পুরসভার অধিবেশনে তিনি যে বিষয়টি আবার তুলবেন তা জানিয়ে,প্রতিবাদী এই পুরপ্রতিনিধি বলেন গোটা পুরসভাটাই আসলে স্বজন পেোষণের আঁখড়া হয়ে গেছে,সম্প্রতি যে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে সবাই পুরকর্তাদের কোন না কোন ভাবে চেনা জানা লোক।সবই চেনা জানা আর টাকার লেনদেনে হয়ে যাচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে তিনি যে আইনি লড়াইও করবেন তার ইঙ্গিতও দেন এই ব্যতিক্রমি পুরপ্রতিনিধি।সারদা নিয়ে তিনি যে আবার সিবিআইয়ের দপ্তরে যাবেন তাও সোচ্চারে ঘোষণা করেন প্রকাশ উপাধ্যায়।বিজেপি তৃণমূলের গোপন বোঝাপড়া নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন সত্যকে কিছুদিন চাপা রাখা যায় কিন্তু চিরদিন যায় না।পুরসভার ভেতরে ও বাইরে প্রকাশ উপাধ্যায় যে শাসক দলের জন্য জোরদার কাঁটা তা জানা ছিল বলেই  বোধহয় তাকে ছেটে ফেলতে মরিয়া ছিল শাসক দল,তবে এক্ষেত্রে তাদের বিধি বাম,তাই গোটা রাজ্যে বিরোধীদের অদৃশ্য করে দেওয়ার পরেও পুরসভাতে প্রকাশ কাঁটা শাসক দলকে বিঁধেই চলেছে।