খাস কলকাতায় সাম্প্রদায়িক গুজবের জেরে বন্ধ মাংসের দোকান

রাজ্যে সরকার ও কলকাতা পুলিস সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি না দেওয়ার জন্য বার বার নানা সতর্কবার্তা শোনালেও খোদ শাসকদেলের কর্মী সমর্থকরদের বিরুদ্ধেই  নিজেদের স্বার্থসদ্ধির জন্য সাম্প্রদায়িতকার গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠল। তাও অাবার খাস কলকাতায়। বুধবার বিকেলে বেলেঘাটা রাসমণি বাজার সংলগ্ন একটি মাংসের দোকানে দোকান মালিক ও এক ক্রেতার মধ্যে বচসা শুরু হয় মাংস কেনাকে কেন্দ্র করে। এরপরেই স্থানীয় ওই ক্রেতা এলাকার আর কিছু লোকজনকে নিয়ে মাংসের দোকানে চড়াও হয় বলে অভিযোগ।মাংসের দোকানের মালিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মাংসের সঙ্গে গোমাংস মিশিয়ে দেওয়ার গুজব কৗেশলে রটিয়ে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা হয়। দোকান ভাঙচূড় করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই স্থানীয় বেলেঘাটা থানার পুলিশ গিয়ে মাংসের দোকান বন্ধ করে দেয়। দোকানের দুজন কর্মীকে আটক করা হয়। গোটা বেলেঘাটা এলাকাজুড়ে বৃহস্পতিবার এই গুজব ছড়িয়ে পড়তে থাকে যে মাংসের দোকানে গোমাংস মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।বৃহস্পতিবার গোটা ঘটনার সরেজমিন তদন্তে যান মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের কর্মীরা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী ওই দোকান থেকে এর আগে বার কয়েক মাংস কিনে দাম বাকি রেখেছিলেন,বুধবার তিনি আবার মাংস কিনতে আসলে দোকান মালিক শাহেনশা তাঁর কাছে বকেয়া দাম চান।তাই নিয়ে শুরু হয় বচসা।এরপর এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত সৌমেন নামে ঐ ব্যক্তি আর কিছু লোকজন নিয়ে দোকানে চড়াও হন।অভিযোগ একেবারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তারা পাঠার মাংসে গো মাংস মিশিয়ে দেওয়ার গুজব ছড়ায়।যে দুজন দ‍ােকান কর্মীকে আটক করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে সূত্রের খবর। তবে মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ভাবে এরকম গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে তা নিয়ে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এপিডিঅার এর কর্মীরা। কেন গুজব ছড়ানোর জন্য স্থানীয় শাসক দলের কর্মী সমর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তারা দোকান মালিকোর বিরুদ্ধেই সক্রিয় হয়ে উঠল থানা সেই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে সব থেকে উদ্বেগের বিষয় হল খাস কলকাতার বাতাসে খবু দ্রুত মিশছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ। অার তাকে ব্যবহার করছে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ।