আন্দোলন ভাঙতে প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সংবাদ মাধ্যমের একাংশ-অভিযোগ ভাঙড় আন্দোলেনকারীদের

আগামী মাসের ৮ তারিখে অলীক চক্রবর্তীর মুক্তির দাবি ও ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড তৈরির বিরোধিতায় বড় জমায়েত করতে লাগাতার প্রচার অভিযান চলছে গোটা এলাকা জুড়ে,আর তার মধ্যেই ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করেছে সংবাদ মাধ্যমের একাংশ।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজস করেই সংবাদ মাধ্যমের একাংশ আন্দোলন ভাঙতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।শুক্রবার কলকাতার একটি কাগজে প্রকাশিত সংবাদের বিরোধিতা করে ভাঙড়ের আল্দলোনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়,প্রশাসনের সুরে সুর মেলাতেই ঐ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।সংবাদে ভাঙড়ের আন্দোলনে চিড় ধরেছে বলে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে তা যে এতেবারেই বানানো ও মনগড়া তা জানিয়ে জোরাল প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।ভাঙড় আন্দোলনের সঙ্গে প্রথম থেকে জড়িয়ে থাকা প্রদীপ সিং ঠাকুর পরিষ্কার জানিয়ে দেন,সংবাদ মাধ্যমের একাংশ এর আগেও এরকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল,তাতে তারা খুব সফল হয় নি,এবারও হবে না।প্রদীপবাবু বলেন আসলে প্রশাসন ভেবেছিল অলীক চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই আন্দোলন ভেঙে যাবে,এখন যখন তারা বুঝতে পারছে তা হবার নয়,বরং প্রতিদিন আন্দোলন আর তীব্র আকার নিচ্ছে,তখন সংবাদ মাধ্যমের একাংশের সাহায্য নিয়ে এভাবে আল্দোলনকে দূর্বল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।একাজে প্রশাসন সফল হবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন প্রদীপ সিং ঠাকুর।জমি কমিটির নেতা মির্জা হাসানও জানান প্রশাসনের সঙ্গে তাঁরা প্রথম থেকেই কথা বলতে চেয়েছিলেন,তাই এখনও কথা বলতে রাজি,এলাকার উন্নয়নের কাজে তারা কোনদিন বাধাঁ দেন নি,এখনও দেবেন না।মির্জা হাসান জানান,পাওয়ার গ্রিড তারা কেন চান না,তা নিয়ে প্রশাসন তাদের সঙ্গে খোলা মনে কথা বললে তারাও কথা বলবেন,তবে আন্দোলনে কোন চিড় ধরেনি,ধরবে না বলে জানান জমি কমিটির নেতা।মির্জা হাসানও বলেন তাদের নেতা অলীক চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হবার পর আন্দোলনের তীব্রতা আর বেড়েছে তারা আগে যে গ্রাম গুলোতে সারা পান নি এখন সেখানেও সারা পাওয়া যাচ্ছে।আগামী ৮ তারিখ বড় সমাবেশ থেকে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে ভাঙড় আন্দোলনের তীব্রতা বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জমি কমিটির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়।এদিকে শুক্রবার সংবাদে জমি কমিটির এক সময়কার নেতা সইফুল ইসলামের বক্তব্য বলে যা প্রকাশ করা হয়েছে তা একেবারে মিথ্যে বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন সইফুল ইসলামও।তবে প্রশাসন সংবাদ মাধ্যমের একাংশকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জেলাশাসক তা অস্বীকার করেন।তবে ভাঙড়ের জট যে এখনও কাটেনি তা স্বীকার করে নিয়ে জেলাশাসক জানান আর আলোচনার দরকার আছে।