অানন্দে থাকা চ্যানেলে, শোকের খবরও ভুল

এ রাজ্যের মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমের হাল যে কতটা বেহাল,তা আবারও সামনে নিয়ে এল কলকাতার একটি সংবাদ চ্যানেল।বুধবার সকালে মৃত্যু হয় নকশাল আন্দোলনে একসময় যুক্ত থাকা,বামপন্থী সাহিত্যিক নিমাই ঘোষের। কলকাতার অানন্দে থাকা একটি সংবাদ চ্যানেলে বলা হয় ইনি হলেন সত্যজিত রায়ের সহকারি ফটোগ্রাফার নিমাই ঘোষ।সত্যজিত রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে কত ঘনিষ্ঠ ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সম্প্রচার করা হয় প্রতিবেদন।বুধবার প্রয়াত হওয়া নকশাল নেতা নিমাই ঘোষ যে সে নিমাই ঘোষ নয়,তা বুঝে কিছু পরে সেই প্রতিবেদন তুলে নেওয়া হয়।নকশাল নেতা নিমাই ঘোষকে চেনেই না,কলকাতার ঐ বড় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা,তাই নিমাই ঘোষ মারা গেছে ফেস বুক মারফত সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাড়াতাড়ি খবর করার তাড়নায় এরা সত্যজিত রায়ের সহকারি নিমাই ঘোষ ধরে নিয়ে খবর করতে শুরু করে দেয়।ভুল খবর করার জন্য দুঃখ প্রকাশের জন্যও এরা ব্যয় করে ফেলে অনেকটা সময়। এরাই এগিয়ে থাকা,এগিয়ে রাখার স্লোগান দেয়,আর নানা ব্যবসায়ীক ধান্দায় বার বার রঙ পাল্টায়।আমাদের প্রশ্ন,বুধবার যে নিমাই ঘোষ মারা গেছেন,তিনি নকশাল আন্দোলনের সময় দীর্ঘদিন জেল বন্দী ছিলেন,সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল,আজীবন বিপ্লবী আদর্শে বিশ্বাসি একজন মানুষের মৃত্যুটা খবর নয় কেন?নিমাই ঘোষ মারা গেছেন,সত্যজিত রায়ের সহকারি নিমাই ঘোষ নন,বামপন্থী বিপ্লবী নিমাই ঘোষ অনেকটা পরে ভুল শুধরে সেই খবর অবশ্য প্রকাশ করা হয়,যদিও ততক্ষণে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে,বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন সত্যজিত রায়ের এক সময়কার সহযোগি আলোকচিত্রি নিমাই ঘোষও।তাঁর বাড়িতে গিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন চ্যানেলের প্রতিনিধিরা।অন্যদের আগে খবর ধরানোর তাগিদ থেকেই যে এরকম ভ্রান্তি তা নিয়ে কারোর কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই।