পুলিশ ডেকে পেটানো হলো ছাত্রঃ কাঠগড়ায় মেডিক্যালের অধ্যক্ষ

পুলিশ কারোর জামার কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে চলেছে,কাউকে আবার মাটিতে ফেলে বেদম পেটাচ্ছে,কারোর কপাল ফেটে রক্ত ঝড়ছে। আপাতভাবে এ দৃশ্য দেখে যে কারোর মনে হতে পারে পুলিশ দুর্বৃত্ত দমনে নেমেছে।আসল ঘটনা হল,কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা ছাত্ররা তাদের নতুন হোস্টেলে থাকতে দেওয়ার দাবি নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে এসেছিলেন।ছাত্রদের অভিযোগ পুরোন হোস্টেলের সংস্কারের কাজ চলায় তাঁরা এখন থাকার জায়গা পাচ্ছেন না,তাদের কমন রুম,কিংবা লনে থাকতে হচ্ছে।ছাত্ররা তাই দাবি করেছিলেন নতুন হোস্টেলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হোক।অধ্যক্ষ জানান নতুন হোস্টেলে এবছর যারা ভর্তি হয়েছেন সেই নতুন ছাত্ররা আছেন,তাদের সঙ্গে পুরোনদের থাকতে দেওয়া যাবে না কারণ সেটা মেডিকেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার নিয়ম।দ্বিতায় ও তৃতীয় বর্ষের  ডাক্তারির ছাত্ররা দাবি করেন তারা নতুনদের সঙ্গে একত্রে থাকতে চাইছেন না,তারা জানতে চাইছেন পুরনো ছাত্ররা নতুন হোস্টেল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে কেন?মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের দাবি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি অধ্যক্ষ উচ্ছ্বল ভদ্র।এরপর ছাত্ররা অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখেন।এভাবে কয়েক ঘন্টা কাটার পরেই অধ্যক্ষ পুলিশ ডাকেন এবং পুলিশি তান্ডব শুরু হয়ে যায়।মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াদের অভিযোগ পুলিশ নির্বিচারে ছাত্রদের পিটিয়ে অধ্যক্ষকে ঘেরাও মুক্ত করে। এভাবে মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের পুলিশের জুলুমবাজির শিকার হওয়ায় রাজ্যের একাধিক ডাক্তার সংগঠন নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ প্রশাসন যে কোথাও গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে আলোচনা চায় না এই ঘটনা তার প্রমাণ।অধ্যক্ষ উজ্জ্বল ভদ্রকে কটাক্ষ করে ডাক্তার সংগঠনের পক্ষ থেকে কেউ কেউ বলেছেন ডাক্তারি পড়ার সময় যিনি ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়াতেন,তিনিই এখন ছাত্রদের গণতান্ত্রিক দাবিকে দমন করতে পুলিশ ডেকে তাদের মার খাওয়াচ্ছেন,ক্ষমতার চেয়ার মানুষকে এভাবেই পাল্টে দেয়!! এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার এই ঘটনার পর প্রতিবাদী ছাত্রদের সিদ্ধান্ত তাদের প্রতিবাদ আন্দোলন চলবে,নতুন হোস্টেলের দাবিতে তারা লাগাতার আন্দোলন করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

,