ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের হয়রানি কবে কমবে?

সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকা লুঠ করে নিয়ে যায় প্রভাবশালী রাঘববোয়ালরা। রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি ব্যঙ্কের এক শ্রেণীর উচ্চপদস্থ কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজসের ভিত্তিতেই যে সেই লুঠ পর্ব সাঙ্গ হয় তা এখন সাধারণ মানুষের জানা বিষয় হয়ে গেছে। প্রভাবশালী রাঘব বোয়ালদের টাকা লুঠের পথ সুগম করে দিতে যে সব ব্যঙ্ককর্মীরা যাবতীয় নিয়ম কানন শিকেয় তুলে দিতে দ্বিধা করেন না,সেই ব্যঙ্ককর্মীদের একাংশই আবার সাধারণ কোন গ্রাহককে কোন অছিলায় হেনস্তা কারার সুযোগ পেলে তার পুর্ণ ব্যবহারে একটুও দ্বিধা রাখেন না।মঙ্গলবার বেলেঘাটা রাসমনি বাজারের স্টেট ব্যঙ্ক ব্রাঞ্চে এরকমই এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়া গেল।এক গ্রাহক কাউন্টারে এসে জানালেন,মাত্র দুদিন আগে তিনি স্টেট ব্যঙ্কেরই এক এটিএম থেকে টাকা তোলার পর দেথেন দু হাজার টাকার একটি নোট ছেড়া রয়েছে।তিনি নোটটি চালাতে না পেরে,ব্যঙ্কে এসেছেন চেঞ্চ করতে।প্রথমে ক্যাশ কাউন্টারে গেলেও তাঁকে পাঠান হয়,সার্ভিস ম্যানেজারের কাউন্টারে।সার্ভিস ম্যানেজার জানতে চান স্টেট ব্যঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তুলেছেন তার প্রমাণ কোথায়?ঐ গ্রাহক তখন তাকে তাঁর পাস বুক দেখান,যেথানে আপডেট করা আছে,শেষবার যে টাকা তোলা হয়েছিল সেটা স্টেট ব্যঙ্কের এটিএম থেকেই।এবার সার্ভিস ম্যানেজারের কাউন্টারে বসে থাকা ব্যঙ্ককর্মী ঐ গ্রাহকের কাছে জানতে চান কোন এলাকার এ টি এম থেকে তিনি টাকা তুলেছিলেন।ধর্মতলা এলাকার এক এটিএম থেকে টাকা তোলা হয়েছিল জানার পর ব্যঙ্ক কর্মী জানিয়ে দেন ঐ এলাকার কোন ব্রাঞ্চ থেকেই তাঁকে ছেড়া নোট এক্সচেঞেজ করতে হবে।এরপর গ্রাহক ভদ্রলোক সুর চড়িয়ে জানতে চান কেন,তাঁর একাউন্ট রয়েছে এই ব্রাঞ্চে,আর গোটা সমস্যাটাই মামুলি সমস্যা,এক নিমেষেই সমাধান হয়ে যায়,তার জন্য কেন এত হেনস্থা?ব্যঙ্ককর্মীটি কোন উত্তর না দিয়ে নিজের কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।গ্রাহক ভদ্রোলোক ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের ঘরে ঢোকার আগেই এক ভদ্রলোক তাঁকে পরামর্শ দেন পাশেই একটি বেসরকারি ব্যঙ্ক আছে চলে গেলেই ক্যাশ কাউন্টার থেকে নোট এক্সচেঞ্চ করে দেবে।ঐ গ্রাহক বেড়িয়ে গিয়ে পাশের এক বেসরকারি ব্যঙ্ক থেকে ছেড়া নোট পাল্টে নিয়ে আসে।সেখানে তাকে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় নি,শুধু বলতে হয়েছে নোটটা একটু ছেড়া পাল্টাতে হবে।কার্যত ব্যঙ্কের কাছে ছেড়া বা ফাটা নোট কোন সমস্যা নয়,তবু সরকারি ব্যঙ্কের এই সব কর্মীরা দিনের পর দিন এরকম অসভ্যতা করে যান।সাধারণ গ্রাহকদের হেনস্থা করে এরা মজা পান। এইসব অসভ্য আর ইতর ব্যঙ্ককর্মীদের জন্যই চিচ ফান্ডের রমরমা হয়।জনসচেতনাতাই বোধহয় এই দুষ্টচক্রের একমাত্র দাওয়াই।