জাতীয় সৌধ পরিচর্যাকারী অস্থায়ী কর্মীদের ছেঁটে ফেলার ফরমান জারি কেন্দ্রের

ওরা চাকরী করছিলেন,কেউ ২০ বছর,কেউ ২৫ বছর,কেউ কেউ আবার ৩০ বছরেরও বেশী সময় ধরে।এতদিনেও চাকরী পাকা হয় নি,অস্থায়ী কর্মী হিসেবেই জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়ে দিয়েছেন ওরা।ওরা মানে,এ এস আই,কলকাতা সার্কেল বা জাতীয় সৌধ পরিচর্যাকারী কলকাতা বিভাগের কর্মীরা।এতদিন কাজ করার পর কেন্ত্রীয় সরকারের তরফে এবছরের এই জুলাই মাস থেকেই এঁদের ছেঁটে ফেলার ফরমান শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে।এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে এইসব অস্থায়ী কর্মীদের ব্যয়ভার আর সরকার বহন করবে না,এরা এবার থেকে ঠিকাদারের আওতায় কাজ করবে।জাতীয় সৌধগুলি পরিচর্যার দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি সব ঠিকাদারদের হাতে,তাই পরিচর্যা কর্মীদের দায়িত্বও এবার থেকে ঠিকেদাররাই নেবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত।শুধু তাই নয় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঠিকাদার সংস্থা তাদের পছন্দ অনুসারে পরিচর্যা কর্মী নিয়োগ করতে পারবে।তার মানে এতদিন ধরে যারা কাজ করে আসছিলেন তারা কেউ কাজ নাও পেতে পারেন।আর এই সূত্রেই চরম অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে এসেছে এ এস আই কলকাতা সার্কেলের প্রায় ৩০০ অস্থায়ী কর্মীর জীবন যাপনে।চরম অনিষ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা সম্মিলিত প্রতিবাদে সামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ মাসের শুরু থেকেই তাঁরা কলকাতা বিবাদি বাগ সংলগ্ন এলাকার কারেন্সি বিল্ডিং এর উল্টোদিকের গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।প্রতিকারের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকে।সুবিচারের আবেদন করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছেও।তবে এখনও পর্যন্ত কোন সুরাহার আশ্বাস মেলে নি।এই সব অস্থায়ী কর্মীদের অভিযোগ দিনের পর দিন দুর্নীতি করে সরকারের টাকা নয়ছয় করছে একশ্রেণীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক,তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের পছন্দের লোকজনকে মাত্র কয়েক বছর সৌধ পরিচর্য়াকারী হিসেবে যোগ দেওয়া কিছুজনকে চাকরী স্থায়ী করে দিয়েছেন,অথচ ২০-৩০ বছর চাকরী করেও তাদের চাকরী স্থায়ী হয় নি।কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এই বিভাগে যথেচ্ছাচার চালিয়েছেন একশ্রণীর ক্ষমতাধর আধিকারিক,এখনও তা সমান ভাবে চলছে বলে দাবি করে প্রতিবাদী অস্থায়ী কর্মীরা। সরকারি ব্যয় সংকোচনের যে অজুহাত দেখিয়ে সরকার এইসব অস্থায়ী কর্মীদের দায়িত্ব নেওয়া থেকে  নিজেদের সরিয়ে নিতে চাইছে,তার দ্বিগুন অর্থ এই দপ্তরে নানা দুর্নীতে প্রতিদিন খরচ হয়ে যাচ্ছে বলে এই সব কর্মীদের অভিযোগ।সে বিষয়ে তদন্তের দাবিও তুলছেন এঁরা।এ বিষয়ে আমরা সাতদিন ডট ইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি এ এস আইয়ের ডিজি উষা শর্মার সঙ্গে কিন্তু বার বার ফোন করা হোলেও তিনি ফোন তোলেন নি।তবে প্রতিবাদী অস্থায়ী কর্মীদের পক্ষে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে এনে কেন্দ্রকে চাপ দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।সবমিলিয়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত যে কলকাতার জাতীয় সৌধ পরিচর্যাকারী ৩০০ অস্থায়ী কর্মীদের পরিবারে আচ্ছেদিনের বদলে ভয়াবহ এক খারাপ দিনের বার্তা বহন করে এনেছে তা নিয়ে কোন সংশয় নেই কারোর।

, ,