পড়ুয়াদের অনশন ভাঙাতে অভিভাবকদের চিঠি কেন?

মেডিকেল কলেজে হোস্টেলের দাবিতে অনশনরত পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে বিবেচনা তো দূরের কথা এবার অান্দোলন ভাঙতে ‘হুমকির’ পথ নিল মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ।   মেডিকেল কলেজের অনশনরত  ছাত্রদের উপর চাপ দেওয়ার জন্যই  ছাত্রদের বাড়িতে অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয় ভাবছে কর্তৃপক্ষ। চিঠির বিষয়বস্তু হবে  অভিভাবকরা যেন তাদের ছেলেদের বুঝিয়ে অনশন তুলে নিতে রাজি করান। তা না হলে ছেলেদের কেরিয়ারের চরম ক্ষতি হতে পারে। ইতিমধ্যেই ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ অনশনরত ছাত্রদের। অভিভাবকরা ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলেও প্রতিবাদী ছাত্ররা জানান।এমনকী পুলিশ ও শাসক দলের গুন্ডা দিয়েও তাদের উপর আক্রমনের চেষ্টা হচ্ছে বলে মেডিকেল পড়ুয়াদের একাংশের দাবি।একাধিক চিকিত্সক সংগঠনের পক্ষ থেকে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের এই আচরণের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ উচ্ছ্বল ভদ্র যে কেন্দ্রীয় মেডিকেল আইনের যুক্তি দিয়ে ত়ৃতীয় ও চতুর্থ বছরের মেডিকেল ছাত্রদের একই হোস্টেলে থাকতে না দেওয়ার কথা বলছেন তাকে অসার ও ভত্তিহিন বলে দাবি করে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের পক্ষে ডাক্তার পুণ্যব্রত গুন বলেছেল,কেন্দ্রীয় মেডিকেল নীতিতে কোথাও বলা হয় নি যে,এক হোস্টেলে নতুন ও পুরোন ছাত্ররা থাকতে পারবেন না,বলা হয়েছে এক ব্লকে যেন না থাকে।তাও সেটা শুধু মাত্র রাগিং বন্ধ করার লক্ষ্যেই বলা হয়েছে।মেডিকেল কলেজে সেরকম হওয়ার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই,বরং এখানে সিনিয়ার ও জুনিয়ার পড়ুয়ারা নিজেদের মধ্যে বোঝাবুঝি করে হোস্টেলের ঘর ভাগাভাগি করে এসেছে বার বার।দূর থেকে আসা পড়ুয়াদের ঘর ছেড়ে দিয়েছে কাছাকাছি থাকা ছাত্ররা।নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নতুন ও পরোন ছাত্ররা ঘর ভাগাভাগি করে কার্যত শাসক দলের দাদাগিড়িকে মেডিকেল কলেজে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছিলেন।শাসক দলের নেতাদের খবরদারিকে ফিরিয়ে আনতেই এবার হোস্টেলের ঘর ভাগাভাগি করতে চাইছে মেডিকেল কলেজের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এমনটাই অভিযোগ ডাক্তার পুণ্যব্রত গুনের।তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য,শাসকদলের দাদারা নতুনদের ঘর পাইয়ে দিয়ে মেডিকেল ছাত্রদের অনুগত রাখতে চাইছে,স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি ভূমিকায় নতুন ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্ররা যাতে কোন অপ্রিয় প্রশ্ন না তোলে তা নিশ্চিত করতে চাইছে।সেই জন্যই ঘরে বাইরে চাপ দিয়ে অনশন ভাঙার এই চূড়ান্ত অগণতান্ত্রীক প্রয়াস।বর্তমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের ডাক্তারি চামড়ার নিচে যে তৃণমূলি স্তাবকতা চাপা ছিল,অনশন রত ছাত্রদের সঙ্গে গত কয়েকদিন তিনি যে আচরণ করেছেন তাতে তা সামনে চলে এসেছে বলে ডাক্তার গুনের কটাক্ষ।তবে অনশনরত মেডিকেল পড়ুয়া অনিকেত চট্টোপাধ্যায় পরিষ্কার জানিয়ে দেন নির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে তাঁরা অনশন তুলবেন না।এদিকে,চারদিনের টানা অনশনে দুজন ছাত্রের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাঁদের শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।আবার শনিবার থেকেই আর দুজন মেডিকেল পড়ুয়া অনশন করতে শুরু করে দিয়েছেন।শনিবার বিকেল থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মেডিকেল চত্ত্বরে মোতায়েন করা শুরু হয়,এদের মধ্যে মহিলা পুলিশও ছিল।আন্দোলনরত ছাত্রদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হতে থাকে এবার হযতো জোর করে অনশন ভাঙার চেষ্টা শুরু হবে।তারাও পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিবাদী সমস্ত মেডিকেল ছাত্রকে ডেকে আনায়।ছাত্রদের পাশাপাশি প্রতিবাদী চিকিত্সকদের একাংশও আসতে থাকেন মেডিকেল কলেজ চত্ত্বরে।উপস্থিত হয় মিডিয়াও তাই প্রশাসন গায়ের জোরে কিছু করার সাহস দেখায় নি।আস্তে আস্তে পুলিশ বাহিনী সরে যেতে থাকে।।তবে রাতের অন্ধকারে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ও যাতে কোন আক্রমন নামাতে না পারে তার জন্য তৈরি রয়েছে প্রতিবদী ছাত্ররা এমনটাই দাবি আন্দোলন রত ছাত্রদের।প্রতিবাদী ছাত্ররা তাঁদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়াবার জন্য সকল গণতন্ত্র প্রিয় মানুষের কাছে আবেদন রেখেছেন।একই আহ্বান জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার একাধিক চিকিত্সক সংগঠনগুলিও।তবে বাড়িতে চিঠি ও হুমকি দিয়ে ফোন করাকে শাসক দলের চরম অস্বস্তি ও বেকায়দায় পড়া বলেই মনে করছেন প্রতিবাদী ছাত্ররা।

, ,