নিরাপত্তা শুধু নেতাদের জন্য!!সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কে ভাববে

প্রধানমন্ত্রী সোমবার মেদিনীপুরে এসেছিলেন কৃষাণ কল্যান বিষয়ে সভা করতে।আর নিজেদের কল্যানের বার্তা শুনতে এসে সাধারণ মানুষ ম়ঞ্চ ভেঙে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে মঞ্চের শামিয়ানা পোক্ত না থাকায় এই বিপত্তি।শোনা যাচ্ছে ৯০জন আহত,আহতের মধ্যে অনেককে মেদিনীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও খবর।প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে এসেছেন।আমাদের প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর সভা যখন তখন মানুষের ভিড় হবে তা তো জানা কথাই,তাহলে মঞ্চ ও তার আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো আর পোক্ত ও নিরাপদ যেন থাকে সে বিষয়ে নজর দেওয়া হোল না কেন?এরকম একটা ঘটনায় কত মানুষের প্রাণ যেতে পারতো তার কোন ধারনা কী ছিল না উদ্যোক্তাদের!!কেন এরকম যেন না হয় তার ব্যবস্থা রাখা হয় নি?আসলে বোধহয় এর কারণটা হোল এই যে এ দেশে সাধারণ মানুষের জীবনকে খুব একটা মূল্যবান বলে মনে করার অভ্যাসই তৈরি হয়নি রাজনৈতিক দলগুলোর ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের।তাই তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে কারোর কোন ভাবনা নেই।এ দেশে নেতা নেত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে  সারাক্ষণ প্রশাসন ব্যস্ত থাকে কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সেই প্রশাসনেরই চূড়ান্ত দায়হীনতা বার বার সামনে চলে আসে।এদেশে বন্যা খরা ঝড় বৃষ্টিতে অহরহ মানুষ মরতে থাকে,পথ দূর্টনায় মৃত্যু মিছিল বাড়তেই থাকে।পৃথিবীর সব জায়গা থেকে ট্রেন দূর্ঘটনা মুছে গেলেও এদেশে তা নৈমিত্তিক বিষয় হয়েই থেকে গেছে।এদেশে সাধারণ মানুষ যেন শুধুই সংখ্যা,যে সংখ্যা শুধু ভোটে জিতে ক্ষমতা পাওয়ার হাতিয়ার মাত্র,কয়েকটা সংখ্যা আচমকা মুছে গেলে কারোরই যেন কিছু যায় আসে না।যে ভাবে এদেশে মিটিং মিছিলে লোকের ভিড় তৈরির প্রয়াস করে রাজনৈতিক দলগুলো তা দেখে একবারও মনে হয় না সাধারণ মানুষের ব্যক্তি সত্তাকে এরা আদৌ সম্মান করে,শ্রদ্ধা করে।নানাবিধ যানে চড়িয়ে চূড়ান্ত নিরাপদহীন ভাবে মানুষকে নিয়ে আসা হয় সভা বা মিছিলগুলোতে।কত সময় এভাবে আসতে গিয়েই দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়।পরের দিন শুধুমাত্র সংবাদ পত্রের ভেতরের পাতায় ছোট করে সেই মৃত্যুর খবর ছাপা হয়,কেউ জানতেও পারে না।এভাবেই চলছে দিনের পর দিন,বছরের পর বছর।সোমবারের সভায় নিরাপত্তার বলয় ঘিরে ছিল প্রধানমন্ত্রীকে,নিরাপত্তা ছিল অন্য নেতাদেরও শুধু যারা সভায় শ্রোতা হিসেবে আসবেন তাদের নিরাপত্তার কথা ভাবেন নি কেউ,তাই তাঁদের মাথায় অশক্ত লোহার রড ভেঙে পড়েছে,তাঁরা রক্তাক্ত হয়েছেন,হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন।বিজেপি নেতৃত্ব বলতে শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে,তাঁর কথা শুনতেে এত মানুষের জমায়েত হয়েছে যে মঞ্চ তাদের ভার রাখতে পারেনি,এটা সাধারণ মানুষের প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসার উদাহরণ।এরকম দাবি করার সময়ে বিজেপির এই নেতারা বোধহয় একবারও এটা ভেবে দেখার অবকাশ পান নি যে সাধারাণ মানুষজন প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ভরসার বার্তা দিতে তাঁর সভায় হাজির হয়ে ছিলেন তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাটাও তাদের দায়ের মধ্যেই পড়ে।তবে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার দায় না নেওয়াটাই তো এ দেশের রাজনীতিকদের চেনা চেহারা,তাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় এসে আহতদের নিয়েও শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পালা।রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ বাইরের রাজ্য ঝাড়খন্ড থেকে লোক এনে ভিড় জমিয়েছিল বিজেপি।ভিড় কাকে বলে তা তৃণমূল দেখাবে ২১ জুলাই।হাঁ সামনে ২১ জুলাই আবার কাতারে কাতারে লোক আনা হবে গ্রাম গঞ্জ থেকে,যেমন ভাবে হোক ভিড়ের বহরে হারিয়ে দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে।সেদিনও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে প্রশাসন তবু আসা যাওয়ায় কোন নিরাপত্তার আশ্বাস না পেয়েও সভা ভরিয়ে দেবে সাধারণ মানুষ কারণ এ দেশে এটাই দস্তুর।