সহনাগরিকের প্রতি এ কেমন অাচরণ!

তবে কী এই সত্য মেনে নেওয়া ছাড়া কোন গতি নেই যে আমাদের শহরের বিবেক খোয়া গিয়েছে।আর সেই হারিয়ে যাওয়া বিবেকের সন্ধানে প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে মানতে শিখে গেছে শহর কলকাতা।তাই যদি না হবে তবে কোন যুক্তিতে  ট্রেনের ধাক্কায় রেল লাইনের পাশে পড়ে থাকা এক রক্তাক্ত বৃদ্ধকে ছটপট করতে দেখেও পাশ কাটিয়ে চলে আসতে পারেন এ শহরের নাগরিক বৃন্দ,কী করে পারেন সেই রক্তাক্ত দেহের ছবি মোবাইলের ফ্রেম বন্দি করার আগ্রহকে ধরে রেখেও,তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে একেবারে ছেটে ফেলতে?সংবাদ সূত্র বলছে রবিবার বাঘাযতীন রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে রেল লাইনের ধারে পড়ে যান এক বৃদ্ধ। রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করতে থাকেন তিনি,তক্ষুনি তক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলে হয়তো বাঁচানো যেত তাকে,কিন্তু সে দায় নিতে চান নি শহর কলকাতার কোন সহনাগরিক,তাই যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান প্রৌঢ় সেই মানুষটি।এ শহরের দৈনন্দিন যাপনচিত্রে,তার ব্যস্ত গতিময়তায় কোন রেখাপাত করবে না এই সামান্য মৃত্যুর ঘটনা,একদিন পর সব খবরের কাগজের পাতা থেকে মুছে যাবে এই মৃত্যু সংবাদ।তবু এমন মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বোধহয় নিরুচ্চারেই বলে যায়,বিবেকহীন আধুনিকতা আর উন্নয়নের মোহে আমরা ক্রমেই আহ্বান করে আনছি ভয়াবহ এক অন্ধকারময় সময়কে,যখন কেউ কাউকে চিনতে পারবে না,জানতেও পারবে না।বিবেক মানবিকতা তো সভ্যতার আলো,আধুনিকতা আর গতিসর্বস্বতার নামে তাকেই আমরা নির্বাসনে পাঠাচ্ছি প্রতিদিন।তাই কেউ আমাদের চলার পথের পাশে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকলেও কিছু যায় আসে না আমাদের।কারোর জন্য কারোর সময় না থাকলে,আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের বন্ধনটাই বা কোথায় পাবো আমরা?রবিবার রেল স্টেশনের ধারে নাম না জানা যে প্রৌড় তার সহনাগরিকদের নিদারুন উদাসিনতায় যন্ত্রনা সইতে সইতে মৃত্যুর অতল গহ্বরে তলিয়ে গেলেন,তিনি জীবন দিয়ে কী বুযিয়ে গেলেন না এ শহর সামনে নয়,পেছন দিকে এগিয়ে চলেছে!আর কত পেছনে যেতে হবে আমাদের!হয়তো পেছুতে পেছুতে আমরা ক্রমেই খুলে ফেলবো সভ্যতার যাবতীয় পোষাক।একাকার হয়ে যাবো আদিম বর্বরতায়!এই দ্রুত গতির পশ্চাতগমন দেখতে দেখতে কেবলই মনে হয়,এ শহরজুরে কোথাও একটা চরিত্রও কী আর অবশিষ্ট নেই,এই আকালে,এই বন্ধ্যাসময়েও যে বেড়িয়ে পড়তে পারে বিবেকের সন্ধ্যানে!!!এ শহর জেগে থাক তেমন কোন চরিত্রের অপেক্ষায়,সব ঘুমকে নির্বাসনে পাঠিয়ে জেগে থাকো কলকাতা,একমাত্র তেমন কোন চরিত্রের পরশেই হতে পারে শহর কোলকাতার শাপমোচন।