চাপের মুখে কি অাত্মসমপর্ণ করছে নেতৃত্ব? ভাঙড়ের নেতাদের অাচরণে সংশয় তৈরি করছে দাবি এপিডিআর এর

ভাঙড়ে বহুচর্চিত পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলন কি পথ হারিয়েছে?ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনের সমর্থক এ রাজ্যের মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনের সংগঠন এপিডিআর কিন্তু তেমনটাই আশঙ্কা করছে।শুক্রবার ভাঙড়ের জমি আন্দোলনের নেতা মির্জা হাসান ও মোশারফ হোসেনকে খোলা চিঠি দিয়ে এপিডিআরের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে ভাঙড় আন্দোলনের বর্তমান নেতৃত্ব কেন সরকারের ঘুর পথে সাবস্টেশন তৈরির নামে কার্য়ত পাওযার গ্রিড করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে নীরবাতা পালন করছেন। এলাকার মানুষজনদের উপর নতুন করে সরকারি সন্ত্রাস চললেও কেন সে বিষয়ে নেতারা চুপ করে আছেন তাও জানতে চাওয়া হয়েছে,এপিডিআরের চিঠিতে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে ভাঙড় এলাকার বহু মানুষই নেতাদের আচরণে সংশয় প্রকাশ করছেন,সত্যিই কি তারা আন্দোলনকে সঠিক পথে চালিত করতে চাইছেন? চিঠিতে বলা হয়েছে ভাঙড়ের মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে যে আন্দোলন পরিবেশ ও জমি রক্ষায় গ্রামের মানুষজনদের কাছে একটা আশার সঞ্চার করেছিল,প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার নামে প্রশাসনের চাপে ও প্রভাবে তা থেকে নেতৃত্ব যদি সরে আসতে চায় তা খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় হবে।চিঠিতে আলোচনায় যাঁরা সামিল হয়েছেন তারা পাওয়ার গ্রিড বিরোধী গ্রামবাসীদের অধিকাংশের সমর্থন পুষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।প্রসঙ্গত পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে।সরকার ও আন্দোলনকারী নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সামাধান সূত্রের কাছাকাছি তারা পৌঁছে গেছেন।তার মধ্যেই ভাঙড় আন্দোলোনের সমর্থক এপিডিআরের এই চিঠি ভাঙড় আন্দোলনকারীদের সততা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে পাওয়ার গ্রিড হবে না প্রশাসন এই দাবি মেনে নিয়েছে সেই সূত্র ধরেই আলোচনা চলছে।ভাঙড়ের আন্দোলন বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করে ভাঙড় আন্দোলনের এক নেতা জানিয়ে দিলেন পাওয়ার গ্রিড আর সাব স্টেশনের ফারাক না বুঝেই আলটপকা প্রচার চালানো হচ্ছে,সরকারের চাপের কাছে নতী স্বীকারের কোন প্রশ্নই উঠছে না বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।জমি আন্দোলনের নেতা মির্জা হাসান জানাচ্ছেন যারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তাঁরা সকলেই অধিকাংশ গ্রামবাসীর সমর্থনে নির্বাচিত প্রতিনিধি।এমনকী অলিক শর্মিষ্ঠাদেরও গ্রামবাসীরাই আলোচনায় বসতে নির্বাচিত করেছেন।পাওয়ার গ্রিড সংলগ্ন সবকটি গ্রাম ঘুরে এই নির্বাচন পর্ব সাঙ্গ হয়েছে বলে দাবি মির্জা হাসানের।এপিডিআরের চিঠির প্রতিক্রিয়ায় ভাঙড়ের আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছেন একটা অসম লড়াইয়ে তারা যখন বিজয়ের দোরগেড়ায়,একটা নাগরিক আন্দোলন যখন সরকার প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য করছে তখন সে সম্পর্কে সম্যক না জেনে কারোর কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত নয়,তাতে মানবাধিকার যেমন ক্ষুন্ন হয় তেমনি গণতান্ত্রীক আন্দোলনের পরিসরটাও ছোট হতে থাকে।

ছবি ফাইল