চূড়ান্ত চুক্তিতে ভাঙড় আন্দোলনের ইতি- নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উঠছে প্রতারণার অভিযোগ

অবশেষে অাপাতত ভাঙড়ের অান্দোলনেপ ইতি ঘটলো।   সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির পর শনিবার ভাঙড়ের জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি দাবি করেছে  সরকার তার প্রস্তাবিত পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প থেকে সরে আসায় ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হওয়ায়  মঙ্গলবার থেকে ভাঙড়ে সাবস্টেশন তৈরির কাজ শুরু হবে। আন্দোলনকারীদের পক্ষে ভাঙড় আন্দোলনের প্রধান মূখ অলিক চক্রবর্তী জানান,সরকার এখন অনেকটা নমনীয় হওয়ায় তারা একটা সমাধান সূত্র পেয়েছেন।এদিন প্রশাসন ও জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমটির মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।সেই চুক্তি অনুযায়ী সরকার প্রস্তাবিত পাওয়ার গ্রিড এলাকায় আপাতাত একটা আঞ্চলিক সাবস্টেশন তৈরি করবে।এই আন্দোলনে যাঁরা শহিদ হয়েছেন তাদের ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা হবে।এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে সেই মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।অলিকরা পাওয়ার গ্রিড না হওয়ার কথা ঘোষণা করলেও প্রশাসন একবারও পাওয়ার গ্রিড তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বলে কোন বিবৃতি দেয় নি।কোন মিডিয়াতেই বলা হয় নি যে সরকার তাদের পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প থেকে পিছু হটল।অন্যদিকে প্রশাসন ও জমি কমিটির এই চুক্তিকে ভাঙড়ে মানুষের প্রতিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে প্রতারণা বলে অভিযোগ করেছে ভাঙড় আন্দোলনের সহযোগি সংগঠন ভাঙড় আন্দোলন সংহতি কমিটি।এক বিবৃতিতে সংহতি কমিটির পক্ষ থেতে অভিযোগ করা হয়েছে ভাঙড়ের মানুষের গণশুনানির বিষয়টা উপেক্ষা করে,পরিবেশবিদদের পরামর্শ উপেক্ষা করে জমি কমিটি যে ভাবে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলল তা ভাঙড়ের মানুষের প্রতি প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।সংহতি কমিটির বিবৃতিতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে সাবস্টেশনের নামে পাওয়ার গ্রিডকেই ঘুর পথে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত পাকা হয়ে গেছে।এ বিষয়ে জমি কমিটিকে বলা হয়েছিল,সংহতি কমিটি পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জমি কমিটিকে সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধও করেছিল,কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে ভাঙড় আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের একাংশ আচমকাই সরকারের খুব গুনগ্রাহী হয়ে উঠেছিলেন বলে সংহতি কমিটির অভিযোগ।সংহতি কমিটি জানায় শনিবার দিনটা ভাঙড়ের মানুষের কাছে একটা কাল দিন বলেই চিহ্নিত থাকবে,কারণ এই দিনেই সংহতি কমিটির মতে একটা সম্ভাবনাময় আন্দোলন নেতাদের চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার বলি হল।সংহতি কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে চুক্তি পত্রে কোথাও প্রশাসন কবে তাদের প্রতিশ্রুতি মানবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।অথচ সাবস্টেশনের কাজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে বলা হয়েছে,এ থেকেই বোঝা য়ায় ভাঙড়ের আন্দোলনকারীরা আত্মসমর্পন করেছেন।ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের কাউকে কিনে নিয়ে ও ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পনে বাধ্য করা হতে পারে বলেও সংহতি কমিটির বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবারই মানবাধিকার আন্দোলনের সংগঠন এপিডিআরও ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল।জমি আন্দোলনকারীদের পক্ষে পাওয়ার গ্রিড হচ্ছে না দাবি করা হলেও সরকার ও বড় বড় য়াবতীয় মিডিযা য়ে ভাবে পাওযার গ্রিড হচ্ছে  হচ্ছে কি না সে প্রশ্ন এড়িযে জট কাটল ভাঙড়ে বলে প্রচার চালাচ্ছে তাতে  কোথাও য়ে একটা সুকৌশলী খেলা চলছে তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাধাঁ অস্বাভাবিক নয়।