কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়েও অবৈধ , অবৈধ ডিগ্রি থেকে অাজাদির দাবিতে খোলা অাকাশের নীচে ওঁরা

  • বুধবার রাজ্য জুড়ে যখন স্বাধীনতা দিবসের হুল্লোর আর মত্ততা তখনও ওদের চোখে মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কাল মেঘ। এদিনটাতেও ওরা বসে রইলো শহরের রাজপথে,প্রশাসনের কাছে সামান্যকিছু দাবি মিটিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়। ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রেড রোডে চলল স্বাধীনতা দিবস উযাপন। উপস্থিত স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তবে না,এখনো কারো সময় হয়নি কলকাতার এ্যকাডেমির সামনে গত শুক্রবার থেকে একটানা যে ৪৫জন অল্পবয়সী তরুণ অবস্থান বিক্ষোভ করছে তাদের দাবি কানে তোলার। হাঁ,ঠিক এই মূহূর্তে মালদার  GKCITE কলেজের ৪৫জন পড়ুয়া কলকাতার রাজপথে দিনরাত কাটাচ্ছেন একটাই দাবিতে তাঁদের সমস্যার দিকে একটু নজর দিক প্রশাসন। এক অদ্ভূদ সমস্যায় পড়েছেন এইসব পড়ুয়ারা,যার জন্য তারা নিজেরা কোন ভাবেই দায়ি নন। কী সেই সমস্যা?২০১০ সালে মালদায় প্রয়াত কংগ্রেস নেতা গনিখান চৌধুরীর নামে একটি কারিগরি কলেজ তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার সেই কলেজের স্রষ্টা।বলা হয় ১০ ক্লাস পাস করে এখানে কারিগড়ি শিক্ষা নেওয়া যাবে।কয়েকটি পর্বে ভাগ করে যে ডিগ্রি দেওয়া হবে তার ভিত্তিতে চাকরী মিলবে বলেও ঘোষণা করা হয় সরকারের তরফে। কিন্তু এই কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়ে যারা বেরিয়েছেন ও যারা এখনও পড়ছেন এতদিনে তারা জানতে পারেন ওই ডিগ্রির কোন বৈধতা রাজ্য বা কেন্দ্রীয় কারিগরি শিক্ষা সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত নয়।তার মানে এই কারিগরি শিক্ষার ডিগ্রি চাকরীতে কোন কাজে আসবে না।স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে সংস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি তার বৈধতা থাকে না কীভাবে?বলা বাহুল্য এ প্রশ্নের কোন উত্তর নেই,না রাজ্য সরকারের কাছে,না কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। উত্তর খুঁজছেন পড়ুয়ারা,এর উত্তর প্রাপ্তির প্রত্যাশাতে মালদাতে এই পড়ুয়ারা অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন কাজ হয় নি।তারপর কলকাতায় এসে গত শুক্রবার থেকে এ্যকাডেমির সামনে অবস্থানে বসেছেন।রাজ্যপাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী সবার কাছে আবেদন করেছেন,দেখা করে কথা বলতে চেয়েছেন। তবে অবস্থানরত পড়ুয়াদের অভিযোগ কেউ তাদের কথা শুনতে চাইছেন না।সরকারের খামখেয়ালিপনার বলি হতে চলেছে একদল ছাত্রের জীবন।এদের জীবনের সূচনাতেই সরকার এক ভয়াবহ পরাধীনতার গ্লানি এদের কপালে এঁকে দিযেছে বলে এঁদের মত তাই বুধবারের স্বাধীনতা দিবসের হুল্লোর থেকে ওরা ছিল অনেকটা দূরে।প্রতিবাদের নতুন উপায় হিসেবে আমরণ অনশনের দিকে যাওয়ার কথাও ভাবছেন এই সব প্রতিবাদী পড়ুয়ারা।
,