বিবেক হারা সমাজ

প্রকাশ্য রাস্তায় যুবককে চুরির অপবাদে বাতিস্তম্ভে বেঁধে রড দিয়ে পেটান হচ্ছে,রক্তাক্ত যুবককে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।সারাদিন বাঁধা থেকে যন্ত্রনায় কাতরেছে যুবকটি।রাস্তার কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেনি।রাতে যুবককে ধরে টেনে হিচরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দোকান মালিক বেঁধে রেখে ইলেকট্রিক শক দিয়ে দিয়ে অচৈতন্য করে শাস্তি দিয়েছে।তার পর সেথান থেকে কোনক্রমে পালিয়ে কলকাতা সংলগ্ন এক মন্দিরের চাতালে দিন কাটিয়েছে আহত সেই যুবক।এ যাত্রা ভাগ্যক্রমে সে প্রাণে বেঁচে গেছে।সপ্তাহ খানেক আগে এমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়া মধ্যমগ্রামের পিন্টু মন্ডল এখনও সেই নির্দয়তার ঘোর কাটিয়ে বেরুতে পারছে না।নাগেরবাজারের অমরপল্লিতে দিন সাতেক আগের এই ঘটনা সাত দিন ডট ইনে প্রথম খবর হয়েছিল।আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম কেন কলকাতার এত কাছে মধ্যয়ুগীয় এই বর্বরতা দেখেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নি?তাহলে আমাদের সমাজ ক্রমশ কি চলে যাচ্ছে বিবেক হীনতার দিকে!আমরা তবে হারিয়ে ফেলছি বিবেক মানবিকতা মনুষ্যত্ব বোধের মত মানবিক অনূভূতিগুলো?পিন্টু মন্ডল যদি সত্যিই চুরি করে থাকে তার শাস্তির ব্যবস্থা তো পুলিশ প্রশাসনের করার কথা,কোন যুক্তিতে তাকে বাতিস্তম্ভে বেঁধে রড পেটা করতে পারে কোন দোকান মালিক?কোন যুক্তিতে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ইলেকট্রিক শক দিতে পারে কেউ?তবে কি মধ্যযুগীয় বর্বরতার উপাখ্যান আমাদের এখনও ঘিরে রেখেছে!!আমরা এখনও থেকে গেছি বর্বর আর ইতর হয়ে!তা যদি না হয় তবে একজন রক্তাক্ত আহত মানুষ রডে বাঁধা দেখেও কেন কারোর কোন বিবেক দংশন অনূভূত হল না,কেন কেউ এগিয়ে এসে বলতে পারলেন না,কোন সভ্য সমাজে এ দৃশ্য দেখা অপরাধ?আত্মকেন্দ্রীক আজকের সমাজ ক্রমেই সরে সরে যাচ্ছে গভীর এক অন্ধকারের দিকে,যেখানে কেউ কাউকে দেখে না সবাই নিজের জন্য টিকে থাকতে চায়,সবাই নিজের নিজের আঁখের গোছায়।পিন্টু মন্ডল তার গোটা দেহের যন্ত্রণায় কাতর,গোটা দেহে তার ক্ষত।এই ক্ষতটা আসলে সমাজের গভীর অসুখেরই প্রমাণ।সত্যিই আমাদের সমাজের গভীর গভীরতম অসুখ এখন!!!