মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মালদার পড়ুয়ারা কিছু বলতে চায়

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ,যে ভাবে আপনি টালিগঞ্জে চলতে থাকা সিরিয়াল সমস্যার সমাধান করেছেন কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাতে মানতেই হচ্ছে আপনার নের্তৃত্বের দৃঢ়তা আছে।নবান্নে সব পক্ষকে ডেকে সামাধান করিয়ে টালিগঞ্জ পাড়ার একেবারে সাধারণ শিল্পীদেরও উপকার করলেন আপনি।এঁদের অনেকেরই তো দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা,তাই অচলাবস্থা কাটায় এঁদেরই সবচেয়ে বেশী স্বস্তি।শুধু নের্তৃত্বের দৃঢ়তাই নয় এরকম একটা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আপনি এ রাজ্যের প্রধান প্রশাসক হিসেবে আপনার দায়িত্ব সচেতনতারও প্রমাণ দিয়েছেন,তাই আবারও আপনাকে ধন্যবাদ।তবে এই সূত্র ধরেই আপনার কাছে আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী,প্রত্যাশা রাখি প্রশ্নগুলোকে নিছক সমালোচনা বিবেচনা করে এড়িয়ে যাবেন না,প্রশ্নগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে ভেবে দেখবেন।যে আপনি টলিউডের সমস্যা নিয়ে এত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন,সেই আপনি কীভাবে পারেন,চা বাগানের শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরিরি দাবিতে ধর্মঘট চলতে দেখেও দিনের দিনের দিন চুপ থাকতে,অনাহারে চা বাগানে মৃত্যু হওয়ার খবর আসার পরেও কেন আপনার দৃঢ় নের্তৃত্বের গুনে চা বাগানে চা শ্রমিকদের স্বার্থে কোন নীতি প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যায় না?মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনি কী জানেন,গত ১৫ দিন ধরে মালদা থেকে এসে একদল ছাত্র ছাত্রী এই শহরের এক রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন।কোন অপরাধ না করেই এক ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি ওরা,মালদার যে কারিগরি কলেজে ওরা পড়েছে,এতদিনে জানা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনস্থ সেই কলেজটির দেওয়া ডিগ্রির নাকি কোন আইনি বৈধতাই নেই।অথচ ওরা প্রায় অধিকাংশই নিম্ন বিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়ে হয়েও লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঐ কলেজে পড়েছে শুধু এই প্রত্যাশাতে যে সেখান থেকে ডিগ্রি নিয়ে বেরুলে কোথাও একটা চাকরির নিশ্চয়তা মিলবে।আজ যখন একটা কেন্দ্রীয় সংস্থা ওদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে,তখন ওরা চাইছেন,শুধু আপনার সঙ্গে একটু দেখা করে ওদের সমস্যার কথা বলতে।ওরা কোন ভাবেই সমস্যার জন্য আপনাকে বা আপনার সরকারকে দায়ী করছে না,শুধু চাইছেন এ রাজ্যের প্রধান প্রশাসককে ওদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত করতে,যাতে আপনি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে জানান।আ্কাডেমির সামনে দিনের পর দিন অবস্থান করেও আপনার সঙ্গে দেখা করার সময় আদায় করতে পারছেন না ওরা।আমাদের প্রশ্ন কেন,কেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনি ওদের সময় দিচ্ছেন না,এই সময় ওদের মরুভূমি হয়ে যাওয়া ভবিষ্যত পরিকল্পনায় আপনার সামান্য আশ্বাস সান্ত্বনা হয়তো হয়ে উঠতে  পারতো এক টুকরো মরুদ্যান।আপনি সেই মরুদ্যানের অনুভূতি থেকে কেন ওদের বঞ্চিত করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?আপনি না শুনলে কে শুনবে ওদের কথা,কোথায় যাবে ওরা?মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনি না নিজেকে মা মাটি মনুষের প্রতিনিধিত্বকারী বলে দাবি করেন,তাহলে গ্রাম বাংলা থেকে আসা ওই ছোট ছোট ছেলে মেয়েগুলোর হাহাকার যদি আপনার বুকেই না জ্বালা ধরায় তাহলে তো মাটির কাছা কাছি থাকার অঙ্গিকারটাই মিথ্যে হয়ে যায় তাই না?তাই আমাদের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রী আপনি ভাবুন,আপনার নের্তৃত্বের দৃঢ়তা,আপনার সংবেদনশীলতা সর্বত্র প্রসারিত করুন।বিনোদন দুনিয়ার বাইরেও জীবন আছে,আছে সমস্যা সেখানেও পড়ুক আপনার প্রশাসনিক দক্ষতার পরশ।