চিটফান্ডের তোলাবাজ প্রভাবশালীদের ৩৪৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার? কোথায় কেডি সিং?

সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সারদা ও রোজভ্যালির থেকে তোলাবাজি করে প্রভাবশালীরা যে টাকা হাতিয়ে ছিল তা এক প্রাক্তন সাংসদ মারফত হাওলার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী টাকার অঙ্কটা প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা। সুদীপ্ত সেন ও গৌতম কুন্ডুর কাছ থেকে যেসব প্রভাবশালীরা টাকা নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শাসকদলের একাধিক নেতা মন্ত্রীর নামও। রিপোর্টে ওই প্রাক্তন সাংসদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে চিটফান্ড কাণ্ডের অারেক মাথা তৃণমূলের  সাংসদ কেডি সিংয়ের এখন কোন পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। একবার ইডি কেডি সিংকে সমন করলেও বেশি দূর এগোয়নি। কেডি সিং নাকি বিদেশে পালাবে করছে তার অাগে এখন তার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত করতে চাইছে ইডি।

অ্যালকেমিস্ট চিটফান্ডের মালিক কেডি সিংকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। নিয়ম না মেনে বাজার থেকে প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা তোলে অ্যালকেমিস্ট। প্রাক্তন এই সাংসদের দফতর ও বাড়িতে অায়কর হানাও দেয়। কিন্তু তার পর সব চুপচাপ। চিটফান্ড নিয়ে কেডি সিংকে খুব একটা ঘাটায়নি সিবিঅাই বা ইডি। প্রশ্ন উঠছে কেন? গত বিধানসভা ভোটে নারদা স্টিংয়ে দেখা যায় শাসকদলের একাধিক সাংসদ ও মন্ত্রীকে টাকা নিতে। পরে জানা যায় এই স্টিংয়ের টাকা নাকি দিয়েছিল কেডি সিংয়ের সংস্থা । নারদা স্টিং কেডি সিংয়ের টাকায় হয়েছে ,ম্যাথু স্যামুয়েলের এই দাবির পর অস্বস্তি এড়াতে  কেডি সংস্থা অ্যালকেমিস্টের উপর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন কেডি সিংকে টিকিট দেওয়া ভুল হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুঝতে এত দেরি হল কেন? কারণ কেডি সিং বা অ্যালকেমিস্টের বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১১ সালে দিল্লি বিমান বন্দরে ৫৭ লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে অসম যাওয়ার সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকায়। পরে অবশ্য সেই টাকা নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমানে গুয়াহাটি যান কেডি সিং। সেই সময়ে অসমে নির্বাচন ছিল।বিষয়টি নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। ঝাড়খণ্ড থেকে জেএমএমের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়ার পিছনে কেডির অর্থের জোরই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন অনেকে। তবে কেন এক বিরোধী দলের চিটফান্ডের মাথাকে বর্তমান কেন্দ্রের সরকার এতদিন ধরে ছাড় দিল  তা স্পষ্ট হচ্ছে না।