অহিংস রাজনীতি কথা!!

একটি শিশু বয়স মাত্র তিন ,হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এখনও।কোন রাজনীতি করত এই শিশু,কোন দলের সমর্থক সে,কেন তাকে ক্ষমতার রাজনীতির বলি হতে হল,কেন তার মাথা এফোঁড় ওফোঁড় করে চলে গেল বুলেট?এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে না কোনদিন,ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির চাপানউতোর পেরিয়ে,আমাদের নাগরিক সমজের কেউ জানতে চাইবেন না,এ কোন গণতন্ত্র! কোন অহিংস রাজনীতি?আমরা নাগরিক এখন দলতন্ত্রের নাগপাশে বন্দি,আমাদের নাগরিক সত্তাকে আমরা সমর্পন করেছি কোন না কোন ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা রজনৈতিক দলের কাছে।একাকি বিচ্ছিন্ন নাগরিক আমরা এখন কোন না কোন রাজনৈতিক দলে থেকেই বাঁচি মরিও।সেরকম বাঁচা মরা থেকে রেহাই মেলে না তিন বছরের শিশুরও।এ রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ৩০জনের মৃত্যু হয়েছে।আর পঞ্চায়েত ভোটের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে মারা গেছে ১১ জন।কে জানে আর কত মৃত্যু প্রতীক্ষা করে রয়েছে এই গণতান্ত্রীক ব্যবস্থাপনার আয়োজনে!অথচ কী আশ্চর্য আমাদের গণতান্ত্রীক ব্যবস্থায় নাকি কোথাও হিংসার স্থান নেই,এ দেশের সমস্ত সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলো নাকি অহিংসা আর শান্তির চর্চা করে।এমনটাই তো বোঝান হয়েছে আমাদের,বিশ্বাস করান হয়েছে,কিংবা বুঝতে বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয়েছে।আমাদের বোঝান হয়েছে অহিংসার রাজনীতি করে শুধু মাওবাদীরা,তাই ওদের পক্ষে যারা বলে তাঁরাও হিংসার মদতদাতা,খুনের রাজনীতির সমর্থক।তাই তো আরবান নকশালদের জেলে পোরার জন্য দেশ জুড়ে এত আয়োজন।আমাদের সংসদীয় রাজনৈতিক দল গুলো হিংসা খুন থেকে শত শত মাইল দূরে থাকে,তাই গত কয়েকদিন ধরে এ রাজ্যের গ্রাম বাংলার দিকে দিকে যে গুলি বারুদের লড়াই সে সবই আসলে অহিংস শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বলেই মানতে হবে।হাঁ মেনে নিচ্ছি আমরা,আমাদের নাগরিকদের তো আলাদা কোন সত্তা অবশিষ্ট নেই,আমরা তো এখন কোন না কোন দলেরই অংশ তাই দল যা বলবে তা না মেনে আমাদের উপায় কী!হয়তো এরকম উপায়হীন হয়েই বুলেটবিদ্ধ শিশুটির মাও দল পাল্টেছিলেন।তিনি যে দলের হয়ে পঞ্চায়েতে জেতেন পরে মত পাল্টে অন্যদলে চলে যেতে বাধ্য হন।আর তারই পরিণতিতে তাঁর তিন বছরের শিশুটিকে বুলেটবিদ্ধ হতে হয়।ক্ষমতার রাজনীতি তো এভাবেই তার হিসেব বুঝিয়ে দেয়,দিয়েছে বার বার।তবু আমরা মেনে নিই এর নাম অহিংসা,এর নাম শান্তির রাজনীতি।যে শিশুটি এখন বুলেটবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সেও যদি বেঁচে ফিরে আসে,তারপর সময় পেরিয়ে একদিন যদি হয়ে ওঠে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক তখন তাঁকেও আমরা আমাদের এই অহিংস শান্তির রাজনীতির মহিমা কীর্ত্তন করাতে বাধ্য করবো।আমরা,আমাদের রাজনীতিকরা তাকেও নিশ্চয়ই বোঝাবো,এদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে হিংসা ও সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই।তবে সেদিন শিশুকালে কপালে আঁকা ক্ষত চিহ্ন কি তাকে নিরুচ্চারে অন্যকিছু বলতে চাইবে! কে জানে হয়তো বা!!!