পুজো কমিটির জন্য হলে সেতু পরিচর্যার জন্যই বা অর্থের বরাদ্দ হবে না কেন!

মাঝের হাট ব্রিজ বিপর্যয়ের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রীই জানিয়েছেন রাজ্যের কুড়িটি ব্রিজ তাদের জীবনী শক্তি খুঁইয়েছে।এই সব ব্রিজের পরিচর্যা দরকার,মুখ্যমন্ত্রী তার জন্য বিশেষ একটি সেল তৈরি করে দিয়েছেন,ঘোষণা করেছেন এই সেল নিয়মিত ব্রিজগুলির তদারকি করবে।সাধু উদ্যোগ কোন সন্দেহ নেই,তবে তার পরেও কিছু প্রশ্ন থাকে,থাকবে।মাঝেরহাট ব্রিজ বিপর্যয়ের পর জানা গেল পরিচর্যার জন্য আগেই বলা হয়েছিল,অর্থের বরাদ্দ হয় নি বলে কাজ আটকে গেছে।এটা যদি সত্য হয় তবে তা বড় দুর্ভাগ্যের,বড় বিপদের কথা।যেখানে অগনিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত সেখানে কোন যুক্তিতে অর্থ বরাদ্দ আটকে য়ায়?যে সরকার,যে প্রশাসন অহরহ উন্নয়নের বার্তা দেয়,সেই সরকার কোন যুক্তিতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে উন্নয়নের আওতার বাইরে বলে ভাবতে পারে?মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন এবার পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।বিদ্যুতের বিলে যে ছাড়ের ঘোষণা তাতে এই  অনুদানের আর্থিক পরিমান অনেকটাই বাড়বে সন্দেহ নেই।প্রশ্ন ওঠা কি স্বাভাবিক নয় যে, পুজো কমিটিকে অর্থিক অনুদান দিতে যদি সময় ব্যয় না হয় তাহলে বিপজ্জনক ব্রিজগুলোর পরিচর্যার জন্য অর্থের যোগান দিতে সময় চলে যায় কোন যুক্তিতে?তা হলে কী ধরে নিতে হবে সরকার সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ততটা গভীর করে ভাবছে না!!তাছাড়া দুর্গা পুজোতো সর্বৈব ধর্মীয় অনুষ্ঠান,সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ কোন সরকার কোন যুক্তিতে সরকারি অনুদান দিতে পারে!!একই প্রশ্ন তো তোলা যায় ইমামদের ভাতা দেওয়া নিয়েও।সংবিধানের নিয়মকে যদি সাংবিধানিক পদাধিকারিরাই ক্রমাগত লঙ্ঘন করতে থাকেন তাহলে সংবিধানের সূচিতা রক্ষা করার দায়িত্ব কে নেবে?রাজ্য জুড়ে ব্রিজ গুলো যদি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে সরকারের তো সবার আগে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত,যে কোনভাবে অর্থের জোগান দিয়ে ব্রিজ গুলিকে বিপদ মুক্ত কারার তাগিদকে দুরে সরিয়ে পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদানের এই ঘোষণায় সরকারি কাজের অগ্রাধিকার নিয়ে সংশয় হওয়া কী অস্বাভাবিক!১০ হাজার টাকা করে ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান ও বিদ্যুতের ছাড় দিতে ২৮ কোটি টাকা খরচ হবে বলে হিসেব বলছে।আর এরই পাশাপাশি জানা যাচ্ছে ৩কোটি টাকার অভাবে মাঝেরহাট ব্রিজের পরিচর্যা নাকি আটকে গেছিল,সত্যিই কী বিচিত্র এই…..আলেকজান্ডার সেলুকাসের যুগ কত দিন আগে পেরিয়ে এসেছি আমরা তবু বিচিত্র কান্ডকারখানার কোন বিরাম নেই এই দেশে।