নকশাল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় পাসপোর্ট মিলল না চিত্রপরিচালকের?

সোশ্যাল মিডিয়ায় যেরকমটা লিখেছেন The Running Hawker এর অন্যতম পরিচালক অভিজ্ঞান সরকারঃ

আমরা একটা ছবি বানিয়েছিলাম The Running Hawker । ছবিটা বানাতে বিশেষ টাকা পয়সা লাগেনি। সম্পাদনা ও আবহ বিনে পয়সায় করে দিয়েছিল শুভদীপ্ত, সব্যসাচী, দিব্যকমল, শুভব্রত সেন। ডকুমেন্টারি দেখানোর সুযোগ কম, কলকাতায় পিপলস ফিল্ম ফেস্টিভালে কিছু মানুষ দেখেছিলেন। কাঠমান্ডুতে ফিল্ম সাউথ এশিয়াতে একটা স্ক্রিনিং হয়েছিল গত বছর নভেম্বর এ। মূলত: ডকুমেন্টারি ফেস্টিভালগুলোতে পাঠাচ্ছিলাম সেই সময়। পাঠাতে বিস্তর খরচ, ২০/৩০ ডলার লাগে। কোন খুঁটির জোরও ছিল না। এদিক সেদিক রিজেক্ট হবার পর একটি কোরিয়ান ডকুমেন্টারি ফেস্টিভাল এ এশিয়ান কম্পিটিশন এ নির্বাচিত হয় ছবিটা, DMZ International Documentary Festival-এ। এদের এখানে এন্ট্রি ফি নেই। খুব খারাপ নয় ফেস্টিভালটা। আমাকে আর চন্দনকে তারা আমন্ত্রণও করে তারা। আজ সেখানে আমাদের ছবিটার স্ক্রিনিং ছিল।

নকশাল রাজনীতি করার কারণে বেশ কয়েকবার মিথ্যা মামলায় আটক হয়ে জেল যেতে হয়েছিল। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ফাঁসতে হয়েছিল। ২০০৭ থেকে দুটি মামলা চলছে, ২০১২ তে থেকে দুটি। হাজিরা দেই। আগে কখনো পাসপোর্ট করাতে দেইনি। ছবির সুবাদে সুযোগ আসায় আবেদন করলাম। আবেদন অন হোল্ড হল, কোর্ট থেকে পারমিশন আনতে হবে। চার বার হলদিয়া কোর্ট গিয়ে সেখানে আবেদন খারিজ হল। হাইকোর্ট এ আবেদন করতে গিয়ে জানলাম চারটে কেসের জন্য চারটে কোর্ট থেকে আবেদন করে রিভিশন পিটিশন করলে হতেও পারে আবেদন গ্রহণ। চারটে কোর্ট ঘুরে পিটিশনের সময় ও শক্তি ছিল না। হল না তাই যাওয়া। পোস্ট অফিসের সুবাদে চন্দনের পাসপোর্ট এত দেরিতে এল যে ওরও সময় পেরিয়ে গেল। হল না যাওয়া।

ছবিটা নিয়ে প্রচার করতে পারিনি। ছবি জন্য ল্যালল্যাল করে টাকা তুলতে পারিনি, ব্রোসিওর বানাবো বলে, পোস্ট প্রোডাকশন করব বলে। ট্রেনের সাধারণ হকারদের অসাধারণ লড়াইয়ের খন্ড চিত্র আছে ছবিটাতে। ছবিটা কেউ দেখাতে চাইলে এখানে দেখাতে পারেন, দেখতে পারেন।

,