ভাগীরথী নেওটিয়ায় গাফিলতি শিশুমৃত্যুর অভিযোগ।পরিবারকে মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গি জানালেও রিপোর্টে উল্লেখ ডেঙ্গির মত?

রাজ্যে ডেঙ্গুতে আবার মত্যু হোল এক শিশুর। শিলিগুড়ি থেকে আসা এই শিশুর মৃত্যু নিয়ে রীতিমত উত্তেজনা ছড়াল নিউটাউনের ভাগীরথী নেওটিয়া হাসপাতালে।ম়ৃত শিশুর নাম সায়েসা ব্যনার্জি,বয়স ৭ বছর। পরিবারের অভিযোগ জ্বর ও বমি নিয়ে সে গত শনিবার শিশুটি ভর্তি হয় নিউটাউনের এই সুপার স্পেশাল চাইন্ড হাসপাতালে।শিশুটির মা বাবার অভিযোগ তাদের এক পরিচিতের কথা মত তাঁরা সুদুর শিলিগুড়ি থেকে তাদের মেয়েকে এখানে এনে ভর্তি করান,কারণ এখানে নাকি যাবতীয় চিকিত্সার পরিকাঠামো আছে।শিনিবারের পর রবিবার সাকালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেছিল তাদের কোন সমস্যা নেই,রক্তের  ব্যবস্থা  করার কোন অসুবিধা হবে না। কিন্তু রবিবার রাতে অবস্থা ক্রিটিক্যাল বলা হয় হাসপাতাল সূত্রে।আর এদিন ভোর পাঁচটার সময় তাদের মেয়ের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় অভিভাবকদের।এই ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিত্সায় গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন মৃতা মেয়েটির পরিবার।তাঁদের অভিযোগ শনিবারের পর থেকে হাসপাতাল কার্যত কোন চিকিত্সাই করেনি।এমনকী এখন হাসপাতাল ডেঙ্গিতে মৃত্যু বলে ঘোষণা করলেও ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে ডেঙ্গির মত।( রাজ্য প্রশাসনের হুমকির জেরেই কি?)  মৃত শিশুর মায়ের অভিযোগ,পুলিশের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতেও ডেঙ্গির উল্লেখ নেই।পরিবারের আর অভিযোগ এখন তাঁরা জানতে পারছেন এই ভাগীরথী নেওটিয়া হাসপাতালে ডেঙ্গির চিকিত্সার কোন পরিকাঠামো নেই।কেন সে কথা তাঁদের আগে জানানো হল না জানতে চাইছেন মৃত শিশুটির পরিবার।গোটা ঘটনায় সোমবার সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্ত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃত শিশুর পরিবারের সকলে,জড় হন তাঁদের আত্মীয় স্বজনও।হাসপাতাল সূত্রে বলা হয় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গিতে,আচমকাই অবস্থা সংকটজনক হয়ে পড়ে,তখনই বাড়ির লোককে তা জানিয়ে দেওয়া হয়।তবে রিপোর্টে কেন ডেঙ্গির উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ করছেন শিশুটির পরিবার,তার কোন সদুত্তর হাসপাতাল সূত্রে মেলেনি।তবে চিকিত্সার গাফিলতি হয় নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি।শিশুটির পরিবার অবশ্য থানার পাশাপাশি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও মেডিকেল কাউন্সিলে হাসপাতালের গাফিলতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।মৃত সায়েসা ব্যানার্জির মায়ের কান্না মাখা আর্তি তাঁর সঙ্গে যা হোল তা যেন আর কোন মায়ের সঙ্গে না হয়,এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেন আর কাউকেই না যেতে হয়।

—প্রতিবেদক মানস চৌধুরি