গুলি গুলো তবে আসছে কোথা থেকে!!

আবার গুলি আবার মৃত্যু।ফিরে ফিরে আসতে থাকা দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে চোখ সওয়া হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ।কোথাও কোন উদ্বেগের চিহ্ন নেই,বরং এমনতো কতই হয়,যেন তেমনই এক সামাজিক পরিমন্ডল।আর বর্তমান রাজ্যের শাসক,তারা তো গুলি চালানোর কথা স্বীকারই করে না।কী আশ্চর্য! গুলি চলছে মরে যাচ্ছে কখোন ভাঙড়ের আন্দোলনকারী,কখোন পাহাড়ের প্রতিবাদী মানুষ,কখোন আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র।রক্তমাখা মৃতদেহ গুলোর সামনে দাঁড়িয়েই প্রশাসন বেমালুম চেপে যাচ্ছে গুলি চালানোর সত্যতা।ইসলামপুরে এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে দুজন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে।রক্তমাখা ছাত্রদের মৃতদেহ দেখছে রাজ্যের মানুষ,তবু পুলিশ বলছে গুলি চালানো হয় নি।তবে কোথা থেকে গুলি এসে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল দুটি তরুণের দেহ?উত্তর নেই,যেমন উত্তর নেই পাহাড়ে যে প্রতিবাদী মানুষজন রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল তাদের দেহে গুলি ঢুকেছিল কীভাবে তারও!ভাঙড়ে যে তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় লাগাতার প্রতিবাদ আন্দোলন করে সেই মৃত তরুণের পরিবারের জন্য ক্ষতিপুরণ আদায় করতে পেরেছে ভাঙড়ের আন্দোলনকারীরা,কিন্তু আশ্চর্যের কথা হল ভাঙড়ের সেই তরুণ যে পুলিশের গুলিতে মারা গেছিলেন তা আজও স্বীকার করে নি পুলিশ প্রশাসন।একই ঘটনা ঘটেছিল ঢোলার হাট আর ফারাক্কাতেও।গুলি চলে সরকার বিরোধী প্রতিবাদী মানুষ মরে যায় কিন্তু কোথা থেকে গুলি আসে জানা যায় না।এ ষেন এক অদ্ভূদ ধাঁধাঁ।

এই ধাঁধাঁর উত্তর পেতে হবে আমাদের।আইনের শাসনে,গণতান্ত্রীক ব্যবস্থাপনায় এভাবে গুলি বিদ্ধ হয়ে মানুষ মারা যাবে আর তার দায় প্রশাসন এড়িয়ে যাবে তা চলতে পারে না।বৃহস্পতিবার একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যা ঘটেছে তা ভয়াবহ ঘটনা।ছাত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়া মানে তো শিক্ষাঙ্গনে কলঙ্ক লেপন করা,এই ঘটনার পর কোন মুখে শিক্ষাক্ষেত্রের পবিত্রতা-নির্মলতা নিয়ে বড়াই করবো আমরা!এত দেখছি দুষ্কৃতীর আঁখড়া আর শিক্ষাক্ষেত্র ক্রমেই একবিন্দুতে এসে মিলে যাচ্ছে।এই পাপ অনাচার রুখতে জানতেই হবে গুলি গুলো আসছে কোথা থেকে?শোনা যাচ্ছে ইসলামপুরে নাকি পুলিশ  সাইলেন্সার লাগানো বন্দুক ব্যবহার করেছে।এটা সত্যি হলে তো বুঝতে হবে পুলিশ আসলে লাশ ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল।তাই সত্যিটা সামনে আনা জরুরি।সমাজের সব স্থবিরতা ভেঙে আওয়াজ তোলা দরকার গুলি গুলো কোথা থেকে এল জানতে চাই!জানতে চাই!কলকাতা হাইকোর্ট ভাঙড়ের গুলি চালানো নিয়ে জানতে চেয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে আজও জানতে পারে নি,আবার কোর্টে যাওয়া হোক।প্রতিবাদে পথে নামুক মানুষ আওয়াজ উঠুক সত্য উন্মোচনের।ট্রিগার হ্যাপি পুলিশকে বাগ মানাতে সাধারণ মানুষকেই পথে নামতে হবে।কোন যুক্তিতে,কোন শক্তিতে রাজ্য প্রশাসন বার বার এত বড় সত্যি আড়াল করে যাচ্ছে,জানতে হবে, হবেই।সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ আন্দোলনে গুলি চালানো অপরাধ,আর গুলি চালিয়ে তা গোপন করা আর বড় অপরাধ,রাজ্য প্রশাসনকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে।