মন্ত্রীর সামনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সন্তান হারা মা

গেছিলেন ক্ষোভ প্রশমিত করতে ফল হল একেবারে উন্টো।ঘটনার কয়েকদিন কেটে যাবার পর রবিবার সকালে প়ঞ্চায়েত ও গ্রামউন্নোয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গোলাম রাব্বানি ইসলামপুরের স্থামীয় বিধায়ককে সঙ্গে করে সদ্য মৃত রাজেশ সরকারের বাড়িতে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান।মন্ত্রী রাজেশ সরকারের মাকে সাত্ত্বনা দিতে চাইলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সদ্য সন্তান হারা মা।মন্ত্রী গোলাম রাব্বানিতে রাজেশ সরকারের মা আঙ্গুল তুলে বলতে থাকেন,মমতাকে আসতে বলুন,তিনিই আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী।ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাজেশের মা এ রাজ্যে একের পর এক মায়ের কোন খালি করে দেওয়ার জন্য মমতাকে অভিযুক্ত করতে থাকেন।মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তীব্র ধিক্কার দিতে দিতে আচমকাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন শোকার্ত ঐ মহিলা।এর পরেই মন্ত্রী ও বিধায়কদের ঘিরে স্থানীয় মানুষজনদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার শুরু হতে থাকে।অবস্থা বেগতিক বুঝে সেখানে আর বেশী সময় থাকেননি মন্ত্রী ও বিধায়ক।তবে সেখান থেকে চলে আসার আগে স্থানীয় মানুষজনদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মন্ত্রীও মেনে নেন ঘটনাটির সিবিআই তদন্ত হওয়া দরকার।সিবিআই তদন্তে তাঁদের কোন আপত্তি নেই স্থানীয় মানুষজনদের কাছে এই কথা বললেও পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে এসেই মন্ত্রী রাব্বানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানান রাজ্য সরকার ঘটনার তদন্ত করছে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।সিবিআই তদন্তের প্রয়োজনিয়তার কথা একেবারেই এড়িয়ে যান মন্ত্রী।তবে ইসলামপুরের স্থানীয় মানুষজনের একটাই দাবি সিবিআই তদন্ত।এলাকায় পুলিশ স্থানীয় মানুষজনদের উপর বিনা কারণে অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় মানুষজনদের পুলিশের উপর ক্ষোভ বাড়ছে।এদিন উত্তর দিনাজপুরের জেলা বিজেপি সভাপতি ঘটনাস্থলে এলে এলাকার মানুষজন তাঁর কাছে পুলিশি জুলুমবাজির বিরুদ্ধে সরব হয়।আর এই পুলিশি জুলুম প্রতিরোধে উত্তর দিনাজপুরের জেলা বিজেপির সভাপতি শঙ্কর চক্রবর্তীর নিদান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে।শঙ্করবাবুর নিদান পুলিশ যদি তৃণমূলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে তা হলে পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতা করতে হবে,পুলিশকেও পাল্টা মারতে হবে,পুলিশকে গাছে বেঁধে পেটাতে হবে।এলাকায় পুলিশকে ঢুকতে দেওয়া চলবে না।শঙ্কর চক্রবর্তীর এই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও ইসলামপুরের একাধিক স্থানীয় মানুষজন কিন্তু জানাচ্ছেন যে ভাবে দুজন তরতাজা তরুণকে গুলি করে হত্যা করার পর পুলিশ ঘটনা অন্যদিকে ঘুরিরে দিতে স্থানীয় মানুষজনের উপর অতাাচার শুরু করেছে তাতে বিজেপির জেলা সভাপতি যা বলেছে তাতে কোন অন্যায় নেই।পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধই এখন বাঁচার একমাত্র পথ।তবে পুলিশকে হুমকি দেওয়ায় রবিবার বিকেলেই উত্তর দিনাজপুরের বিজেপির জেলা সভাপতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের আইজি আইন শৃঙ্খলা অনুজ শর্মা বলেন,মাইক হাতে থাকলেই যা খুশি বলা যায় না,তাই ঐ নেতার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে এর ফলে এলাকায় নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।   মৃত দুই তরুণের পরিবারও মনে করছে পুলিশ ও সরকার একসঙ্গে ঘটনা চাপা দিতে চাইছে,তাই সিবিআই তদন্ত না হলে কারা গুলি চালিয়েছে কোনদিন জানা যাবে না।সব মিলিয়ে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে গোটা ইসলামপুর।

,