এক প্রশাসন দুই মুখ!!

ইসলামপুরে দুই যুবকের মৃত্যুর পর সেখানকার সাধারণ মানুষজনদের উপর পুলিশি নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছিল।রবিবার সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভকে উসকে দিতে বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি শঙ্কর চক্রবর্তী আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এলাকার মানুষকে পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করার কথা বলেন।পুলিশি নিপীড়নের বিরুদ্ধে পুলিশকে পাল্টা আক্রমণের জন্যও তিনি এলাকার মানুষকে আহ্বান করেন।পুলিশকে কুকুরেরও অধম বলতে ছাড়েননি বিজেপির জেলা সভাপতি।ইসলামপুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে হলে শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে তা করতে হবে তা সমর্থন যোগ্য নয়।তাছাড়া নেতা নেত্রীদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত তখন তাদের বড় কোন হানাহানি হিংসা যাতে না হয় তার জন্য সংয়ত হওয়া দরকার।সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িেয়ে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা দরকার।তবে আমাদের এই ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা রাজনীতিতে ঐচিত্য বোধের বিধানকে কেই বা কবে মান্যতা দিয়েছে!!সে দিক থেকে দেখতে গেলে বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি তো আসলে তৃণমূলেরই বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের কথার প্রতিধ্বণি তুলেছেন মাত্র।পুলিশকে মারা ও গাছে বেধেঁ রাখার নিদান দিয়ে শঙ্কর চক্রবর্তী যদি আইন ভেঙে থাকেন,তবে সে আইন তো অনেক আগেই ভেঙেছেন অনুব্রত মন্ডল,প্রকাশ্য সভায় পুলিশকে বোম মারার হুমকি দিয়ে।আমরা তো শুনেছি এই অনুব্রত মন্ডল এক পুলিশ আধিকারিককে প্রকাশ্যে নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁর মত অনুসারে যারা দুষ্কৃতী তাদের দুঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে তিনি নিজেই নাকি এলাকায় ঢুকে তাদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেবেন।বিজেপি নেতা শঙ্কর চক্রবর্তী পুলিশকে হুমকি দিলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হবেন,ভাল কথা,তবে একই অপরাধ করে অনুব্রত কেন গ্রেপ্তার হবেন না?উত্তরটা এ রাজ্যের একটা বাচ্চাও জানে।অনুব্রত শাসক দলের তাই যা খুশি তাই বলে পার পাবেন,তাঁর টিঁকিও ছোবার সাহস হবে না প্রশাসনের কোন কর্তার।রবিবার বিজেপি নেতা শঙ্কর চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করার পর রাজ্য পুলিশিসের ডিআইজি আইন শৃঙ্খলা অনুজ শর্মা বলছিলেন মাইক হাতে থাকলেই যা খুশি বলা যায় না।ভুল বলেছেন রাজ্য পুলিশের এই আধিকারিক।আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলছে মাইক হাতে থাকলে যা খুশি তাই বলতে পারেন শুধু শাসক দলের নেতা নেত্রীরা।এক প্রশাসনের দুই মুখ হলে তা যে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের দুর্বলতাকেই তরাণ্বিত করে,কালক্রমে অরাজগতাকে ডেকে আনে তা বোধহয় এখনও বুঝে উঠতে পারছে না রাজ্য সরকার।যখন বুঝবে তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে নাতো?