লজ্জাহীন রাজনীতি!

নাগেরবাজারের কাজিপাড়ার ৭ বছরের শিশু বিভাস ঘোষ রাজনীতির বলি হয়েছে।বড়রা রাজনীতি খেলবে বলে বোমা বানায় আর ছোট্ট বিভাস সেই খেলার বলি হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিতে বাধ্য হয়।এর পরেও বিন্দু মাত্র লজ্জা পায় না রাজনীতির ধেরে নেতা নেতৃরা।বিবেক মনুষ্যত্বের যাবতীয় অনুভূতিগুলোকে ছেঁটে দিয়ে এরা মেতে ওঠে রাজনৈতিক কাজিয়ায়। দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পাচু রায়ের দাবি তাঁকে হত্যা করতেই এই বোমা রাখা হয়েছিল,এবং তা রেখেছিল আরএসএসের সঙ্গপাঙ্গরাই। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় পাচু রায়ের দাবি সত্যি,তাহলেও কি প্রশ্ন উঠে না,তাকে হত্যা করতে যে বোমা রাখা হয়েছিল,সেই বোমা যখন অন্য একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিল তখন তাঁর কি উচিত ছিল না তত্ক্ষনাত্ সেই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের যবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া,তাদের যন্ত্রণায় প্রলেপ দিতে প্রয়াসী হওয়া?  না এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেননি স্থানীয় পৌর প্রধান।সরকারি স্তর থেকে একটা ফুলের মত প্রাণের ঝড়ে যাওয়া নিয়ে কোন দুঃখ,কোন কষ্টের বার্তা মেলেনি।এমনকী বিরোধী বিজেপিও এই ঘটনাকে শাসক তৃণমূলের অন্দর কলহের ফল বললেও একটা শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে কোন কষ্টের অনুভূতি প্রকাশ করেনি।ক্ষমতার রাজনীতি বোধহয় এরকমই লজ্জাহীন হয়।সাধারণ মানুষের যন্ত্রনা হাহাকার কান্না কিছুই তাদের ছোঁয় না।তাদের একমাত্র আগ্রহ ক্ষমতার লাভ-লোকসান নিয়ে,তাই নিয়েই চলে রাজনৈতিক কাজিয়া,চলে নির্দয় নিষ্ঠুর রাজনৈতিক চাপানউতোর।রাজনীতির এইসব কারবারীরা সব মানুষকে ভাগ করে রাখে “আমরা-ওরায়”।মানুষ দুর্যোগ দুর্বিপাকে পড়লেও এরা আগে জানতে চায় -তুমি কোন দল?নাগেরবাজারের ৭ বছরের এক শিশুর কি কোন দল থাকা সম্ভব ছিল! রাজনীতির দাদা দিদিরা এসব শুনতে চায় না,আসলে এসব শুনতে যে বোধ,যে সংবেদনশীলতা লাগে সেসব তারা খুঁইয়ে ফেলেছে অনেক আগে।এরা শুধু হিসেব কষে রাজনীতির লাভ-লোকসানের।

রাজনীতির লাভ-লোকসানের হিসেবের খাতায় নাম ওঠে নি বিভাস ঘোষ ও তার পরিবারের,তাই তারা রাজনীতির নেতা নেত্রীদের কাছে ব্রাত্যই থেকে গেলেন।একটা ফুলের মত নিষ্পাপ প্রাণ যখন রাজনীতির চরম নোংরামির বলি হয়ে চিরদিনের মত ঝড়ে গেল,যখন বিভাসের মা হাসপাতালে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে,তখন এ রাজ্যের “মানবিক” মুখ্যমন্ত্রী বিভাসের বাড়ির কয়েক কিলোমিটার দুরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পুজো উদ্বোধন করে সবাইকে বলছেন উত্সবে মেতে উঠতে।হাঁ-ক্ষমতার অলিন্দের দিকে ধাবিত হতে চাওয়া এই লজ্জাহীন রাজনীতি বোধহয় এভাবেই নিরুচ্চারে বলে চলে-মানবিকতা যাক,সংবেদনশীলতা যাক,যাক সব শিষ্ঠাচার, শুধু রাজনীতি থাক দলের আসর জাকিয়ে।

,