#মিটুর ঢেউ বাংলা সাংবাদিক মহলেও! যৌন হেনস্তার অভিযোগ অানন্দবাজারের দেবদূত ঘোষ ঠাকুরের বিরুদ্ধে

বিষয়টা ছিলই,তবে সাহস করে সামনে আনতে পারছিলেন না অনেকেই।এখন মিটু আন্দোলনের ধাক্কায় মুখ খুলতে শুরু করেছেন বাংলা সংবাদ মাধ্যমের মহিলা কর্মীরাও।দিন কয়েক আগেই আনম্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন কর্মী সাবেরি গুপ্ত অভিযোগ করেছেন আনন্দবাজারের চিফ রিপোর্টার দেবদূত ঘোষঠাকুর দিনের পর দিন তাঁকে যৌন নির্যাতন করে গেছেন। ওয‍বসাইট বেঙ্গল স্টোরির প্রতিবেদন অনুযায়ী,সাবেরির অভিযোগ মহিলাদের সম্পর্কে দিনের পর দিন অফিসের মধ্যেই অভব্য কথাবার্তা বলে থাকেন আনন্দবাজারের সিনিয়র রিপোর্টার দেবদূত ঘোষঠাকুর।তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করা,বাড়ি ফেরার সময় গাড়িতে তাঁকে যৌন হেনস্তার চেষ্টা করেছে বলে দেবদূতের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও সাবেরি কোন সুরাহা পান নি বলে জানিয়েছেন।শুধু সাবেরিকেই নয়,আনন্দবাজারের আর একাধিক মহিলা রিপোর্টারের সঙ্গে দিনের পর দিন দেবদূত একই রকম অসভ্যতা করে গেছে বলে সাবেরি অভিযোগ জানিয়েছেন।দেবদুত কর্তৃপক্ষের সুনজরে থাকায় আনন্দবাজার অভিযোগকারিকেই শাস্তি দেয় বলে জানিয়েছেন সাবেরি।প্রতিবাদ করায় তাঁকে যে আনন্দবাজার থেকে এবেলাতে ট্রান্সফার করা হয়েছিল সে কথা জানিয়ে সাবেরি বলেছেন শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাকরিটা ছেড়ে দিতে হয়।

এখন প্রশ্ন হল যে কাগজ মিটু নিয়ে এত কথা বলে,যেথানকার কলাম লিখিয়েরা নাকি এ বিষয়ে নৈতিকতার রূপ রেখা তৈরি করেন,তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার অন্ধকার তারা নিজেরাই দেখতে পান না কেন?অনেকেই বলছেন বলা আর করার মধ্যে  ব্যবধান বজায় রাখাই আনন্দবাজার পত্রিকার চরিত্র।বেঙ্গল স্টোরির প্রতিবেদক আনন্দবাজারের প্রাক্তন ও বর্তমান এইচ আর বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বললেও তাঁরা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।অবশ্য এ ঘটনা যে বাংলা সংবাদমাধ্যমে ঘটেই চলেছে,তাই সেদিক থেকে এটাই প্রথম নয়।বছর খানেক আগেই আজকাল পত্রিকার এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছিল।দেবাশিস দত্ত নামের  আজকাল সংবাদপত্রের এক ক্রিড়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মহিলা কর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগ ছিল।রাজ্য মহিলা কমিশন পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়।পড়ে অবশ্য ক্ষমতার জোরে সব ধামা চাপা দেওয়া হয়।মিটু নামের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে,তা যে অনেক ভাল মানুষের মুখোশ খুলে দিতে চলেছে তা টের পেয়ে অনেকেই এখন গুটিয়ে রয়েছে।অনেকেই বলছেন দেবদূত নামের আড়ালে মহিলাদের জন্য যমদূত শুধু আনন্দবাজারে নয়,এ রাজ্যের সব কটি মিডিয়া হাউসের মাথাতেই বসে আছে।এখন দেখার সেই সব ভাল মানুষেদের মুখোশ কখন কী ভাবে,কে, কোথায় ,খুলে দেয়!