পুজোর ভিড়ে অবরুদ্ধ মানবিকতা!

গত কয়েকদিন ধরে পুজোর ভিড়ে একেবারে অবরুদ্ধ গোটা শহর।সাধারণ যাতায়াতের কোন পথ অবশিষ্ট নেই।এতবড় শহরে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা দেখতে যাওয়ায় বেজায় সমস্যার মুখোমুখি সাধারণ মানুষ।রোজ নিয়ম করে লক্ষ লক্ষ মানুষ পুজোর ঠাকুর দেখতে রাস্তায় নেমে পড়ছে।অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে সব রাস্তা।এরই মধ্যে অসুস্থ হলে কাউকে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না চিকিত্সার জন্য।পথে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে আ্যম্বুলেন্সকে।হাসপাতালগুলিতে সব বড় ডাক্তার চলে গেছেন ছুটিতে।বেসরকারি নার্সিমহোমগুলিতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে না পারলে ভর্তি হওয়া যায় না।এই সময় অসুস্থ মানুষজনদের চূড়ান্ত ভোগান্তি।না সরকারি স্তরে মানুষের এই সমস্যা নিয়ে কোন নির্দিষ্ট ভাবনা নেই।হুল্লের আর মত্ততায় মানুষকে মাতিয়ে দিতে সরকারের প্রচার আছে কিন্তু এই সময়ে জরুরি পরিষেবাগুলি কীভাবে বজায় রাখা যায় সরকার কেন তা নিয়ে একটু ভাবনা চিন্তা করবে না,রোগ তো পুজোর সময় বলে থেমে থাকতে পারে না,এই বোধ,এই ভবনা যদি সরকার না ভাবে তা হলে কে ভাববে?গত কয়েক দিন রাস্তায় বেড়িয়ে সাধারণ কিছু মানুষের এরকম অসহায়তার দৃশ্য আামাদের চোখে পড়েছে তাই আমরা মনে করেছি বিষয়টা তুলে ধরা দরকার।হুল্লোর মত্ততায় মানবিক চেতনাগুলো অবলুপ্ত হয়ে গেলে তা খুব বিপদের কথা,আর সরকার যদি সেই অমানবিকতাকে পুষ্টি যোগায় তাহলে বিপদ আর বাড়ে।এই যে পুজো আয়োজনে যে সম্মিলিত প্রয়াস চোখে পড়ে, আমাদের আশ্চর্য লাগে অন্য যে কোন সাধারণ সমস্যায় কেন এরকম সম্মিলিত প্রয়াস দেখা যায় না? অভাব বোধহয় চেতনার,বোধের।আর চেতনা  বোধের জাগরন না হলে মানবিকতার অবরুদ্ধ হওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।একদিকে হুল্লোর মত্ততায় মেতে উঠে মানুষ নেমে পড়বে পথে আর অন্যদিকে সেই ভিড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছুতে মৃত্যু ঘন্টা বেজে যাবে কোন মুমূর্ষু রোগীর।কোন রাজনৈতিক প্রতিবাদ মিছিলের জন্য যদি পথ অবরুদ্ধ হয়,রাস্তায় রোগী আটকে থাকলে মিডিয়া প্রশ্ন তোলে,অথচ একটানা এতগুলো দিন রাস্তা ঘাট অবরুদ্ধ করে রাখার ফলে যে সমস্যা তা নিয়ে কোন মিডিয়াকে কখোন প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় না।কারণটা আমরা জানি,এই পুজো হুল্লোরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন,যার হিস্যায় পুষ্ট হয় বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলোও।তাই চাঁদের গায়ে চাঁদ লাগার মত এই সময় সবাই এক হয়ে মিলে যায়।কিন্তু তবুও প্রশ্ন তো তোলা যায় যে উত্সব-হুল্লোর থাক অন্তত সরকার একটা কোন বিকল্প ব্যবস্থা নিক এই সময়ে জরুরি পরিষেবা সচল রাখার।এই বিষয়টা তুলে ধরা আমাদের দায় বলেই আমরা মনে করছি।আমরা মনে করি কোন ভাবেই হুল্লোর ও মত্ততায় মানবিকতাকে অবরুদ্ধ হতে দেওয়া উচিত নয়।দিন কয়েক আগে  অসুস্থ রোগিকে নিয়ে গাড়িতে আটকে থাকা এক অসহায় মানুষকে পুজো দেখতে বেরুনো মানুষের ঢলের দিকে তাকিয়ে বলতে শুনলাম,-কারোর পৌষমাস কারোর সর্বনাস।আমাদের বোধহয় ভাবার সময় এসেছে এই অসহায় আর্তি কোন উত্সবকে পবিত্র-নির্মল করে না।আর বেশী করে এই বিষয়টা সরকারের ভাবা উচিত।