অাসুন সরকারি উদ্যোগে ভাসান কার্নিভালে গা ভাসাই

মঙ্গলবার সরকারি উদ্যোগে বিসর্জনের কার্নিভাল।রেড রোডে নির্বাচিত দুর্গামুর্তি গুলো নিয়ে যাওয়া হবে,হবে বর্ণময় প্রদর্শনী।গত কয়েকবছর থেকে সরকারি উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে এই জমকালো অনুষ্টানের শুরু।মিডিয়া জুড়ে প্রচার।লোকসমাগমের উদ্যোগ সম্পূর্ণ।কোথাও আয়োজনের কোন খামতি নেই।শুধু এই সময়ে একটা প্রশ্ন কোন স্তর থেকেই উঠছে না,তা হল সরকারি খরচে কেন এরকম ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কার্নিভাল?কেন এই উদ্যোগে সরাসরি সরকার জড়িয়ে পড়বে?এই প্রশ্ন তোলার মত সাহস কারোর নেই সকলেই হুজুকে মাততে চায়,চায় সরকারি আনুগত্য।মেরুদন্ড সোজা রেখে যুক্তি গ্রাহ্য প্রশ্নগুলো তুলে ধরা যে সংবাদ মাধ্যমের দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে তা যেন ভুলে গেছেন সবাই।তাই তো আমাদের অবাক হয়ে দেখতে হয়,যে মিডিয়া বনধ বা ধর্মঘট হলে সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার জিগির তোলে,যে সব মিডিয়া রাজনৈতিক বিক্ষোভ প্রতিবাদ হলে রাস্তায় মমূর্ষু রোগী হয়রানি নিয়ে বিবেকের দাবিতে ধুয়ো দেয়,সেই মিডিয়াই কী আশ্চর্য হীরন্ময় নীরবতা পালন করে দিনের পর দিন কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য রাস্তা বন্ধ থাকলে,কিংবা অপ্রজোনীয় সরকারি ছুটি ঘোষণা হলেও। সবটাই চলে দেনা-পাওনার হিসেব মেনে।চাঁদের গায়ে চাঁদ লাগার মত সরকার মিডিয়া সব একাকার হয়ে গেছে। মানুষকে ঠিক -ভুলের ভেদাভেদ গুলিয়ে দিতে সবাই ব্যস্ত,বোধ-বুদ্ধির সচেতনতা নয় বরং সবাইকে হুল্লোর মত্ততাতে মাতিয়ে দিতে পারলে অপ্রিয় সত্য আড়াল থাকবে।তারই আয়োজন চারদিকে।মাত্র একদিন আগে ধূপগুড়িতে এক আদিবাসী বধুকে ধর্ষণ করে তাঁরই হাঁটুর বয়সী কয়েকজন তরুণ তাঁর যৌনাঙ্গে লোহার ফলা ঢুকিয়ে দিয়েছে।সেই বধু এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।গত কয়েক বছরধরে এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে ধারাবারিক ভাবে,না এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই,দরকার নেই ধর্ষকামী সামাজিক মানসিকতার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ মিছিলের,কোন প্রতিরোধ আন্দোলনের,তার চেয়ে বরং চলুন আমরা ভাসান কার্নিভালে যাই।দেবী মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তি ভরে দুহাত জোড় করে প্রণাম করি।আমাদের চারপাশে থাকা মহিলারা প্রতিদিন যতই নির্যাতনের শিকার হোক না কেন,মনে রাখবেন আমাদের দেবী ভক্তিতে কোন খাদ নেই!!