এক প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের মৃত্যু। দায় এড়িয়ে যেতে পারে কি রেল?

0
15

তৃণাঙ্কুর নাগ, মাত্র বছর পচিঁশের এক তরতাজা যুবক,তাঁর চেয়েও বড় কথা সে এদেশের এক প্রতিভাবান ক্রিড়া ব্যক্তিত্ব। রাজ্যস্তরের ব্যাডমিন্টনে ডাবলসে সে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে,দেশের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছেন,অথচ কী মর্মান্তিক মৃত্যু হল তাঁর!সংবাদ সুত্র অনুসারে তৃণাঙ্কুর খেলার কোটাতেই রেলে চাকরি পেয়েছিলেন,পূর্বরেলে তাঁকে ইলেকট্রনিক বিভাগে চাকরি দেওয়া হয়। তৃণাঙ্কুরের পরিবারের অভিযোগ বিদ্যুতের কাজে কোন প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বিপজ্জনক কাজে পাঠানো হত।আর সোমবার সেই কাজ করতে গিয়েই হাইটেনশন তারে বিদ্যুতপৃষ্ট হয়ে মারা যান তৃণাঙ্কুর।পরিবারের আর অভিযোগ বার বার রেল কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের জায়গা বদলের আবেদন করেও কোন সুরাহা মেলে নি।শেষ পর্যন্ত এরকম মর্মান্তিক পরিণতি।পূর্বরেলের জেনারেল ম্যানেজার সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছেন তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন,কর্তৃপক্ষের কারোর কোন গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রেল কর্তৃপক্ষ কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে আমরা জানি না,আমরা এখনই কিছু প্রশ্ন তুলতে চাইছি,একজন প্রতিভাবান খেলোয়ারের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার স্পর্ধা রেলের হয় কী ভাবে?যে ছেলেটা জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করে এসেছেন,রাজ্য স্তরে চ্যাম্পিয়ান,তাঁকে কেন বিপজ্জনক কাজে পাঠানো হবে,কেন সে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে না?এই মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হবে কী ভাবে? আর সমস্ত মিডিয়া কেন এই মৃত্যুকেও নিছক একটা ইন্সিডেন্টের বাইরে কিছু ভাবতে পারছে না,নাকি ব্যাডমিন্টনের মত ক্রিড়া ক্ষেত্রে কুলিন না হয়ে উঠতে পারা খেলাকে গুরুত্ব না দেবার জন্যই বিষয়টা নিয়ে তেমন শোরগোল নেই!মৃত্যুটা ভয়ঙ্কর,যে ভাবে একটা প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল তার সামগ্রীক মুল্যায়ন করতে বসলে বোঝা যাবে এদেশের একশ্রেণীর নাগরিকের,নেতা-নেত্রীদের  ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের আবেগ কতটা মেকি,মুখোশ সর্বস্ব।যদি সত্যিকারের জাতীয়তাবোধের আবেগে কেউ তাড়িত হতেন তা হয়তো তৃণাঙ্কুরের মত তরুণ ক্রিড়া প্রতিভার এমন পরিণতিতে সবাই লজ্জা পেতেন,মাথা হেঁট করে নীরবতা পালন করতেন!!!