চুরি বিদ্যাকে মহাবিদ্যা মনে করে চলছে জনস্বার্থ বার্তা, নিয়মিত চুরি করছে সাতদিন ডটইনের লেখা

অনেক প্রতিকুলতার মধ্যেও আমরা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বাইরে ব্যতিক্রমী সংবাদ ও সংবাদ-বিশ্লষনের প্রযাস জারি রেখেছি সাতদিন ডট ইন ।আমরা বার বার এই প্রয়াস জারি রাখতে সবার সহযোগিতা ও সাহায্য চেয়েছি।আমাদের খুবই হতাশ লাগে যখন দেখি সহযোগিতা বা সাহায্যের বদলে নানা জায়গা থেকে আমাদের অসহযোগিতা ও প্রতারনা করার প্রয়াস হয়। জনস্বার্থ বলে একটি সাপ্তাহিক লাগাতার সাতদিন ডটইনের লেথা চুরি করে নিজেদের প্রতিবেদন বলে প্রকাশ করে চলেছে। এ বিষয়ে তাদের বার বার সতর্ক করা হলেও তারা কোন গুরুত্ব নিচ্ছেন না।আমরা আমাদের সাতদিনের খবর বা মূল্যায়ন অন্য কেউ প্রকাশ করলে আপত্তি করি না করতাম না,করিও না,বরং আমাদের মনে হয় সাতদিনের লেখা অন্যত্র প্রকাশিত হলে একটু প্রচার হয়,একটু বেশী মানুষ জানতে পারেন,তবে সেক্ষেত্রে সূত্র হিসেবে সাতদিনের উল্লেখ থাকাটা জরুরি বলেই আমরা মনে করি।  বাংলাদেশের একটি নিউজ পোর্টাল আমাদের লেখা নিয়মতি প্রকাশ করে। তবে সূত্র হিসাবে সাতদিনডটইনের নাম উল্লেখ করে।  কেউ যদি অামাদের প্রতিবেদন বা সম্পাদকীয় অবিকল  নিজেদের নামে ছাপায় বা প্রকাশ করে আমরা সেটাকে আমাদের সঙ্গে প্রতারনা বলেই বিবেচনা করি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকা এটা করেছে ও করছেে। জনস্বার্থ বার্তা এটা লাগাতার করে যাচ্ছে। ৩ নভেম্বর সংখ্যায় একেবারে আমাদের একটি প্রতিবেদন হুবাহু ছাপিয়ে দিয়েছে অন্যের নামে। লেখার দাড়ি কমা পর্যন্ত আমাদের,তবে শুধু লেখকের নামটা আলাদা। এই অনৈতিকতা আমাদের হতাশ করে,আহত করে। তাই চুরি ধরে দিতে বাধ্য হলাম।

সাতদিন ডটইনের মূল প্রতিবেদন   ৪ জুন ২০১৮

এ দেশের ক্ষমতা মুখি ভোটের রাজনীতির পাঁকে যে কোন পদ্ম ফোটে না,আমজনতা এতদিনে তা বিলক্ষণ বুঝে গেছেন।তাঁরা চোখের সামনে প্রতিদিন দেখতে পান জনপ্রতিনিধিত্বের নামাবলি গায়ে চাপিয়ে রাজনীতির দাদা-দিদিরা কীভাবে কোন নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করে আঁখের গুছিয়ে চলেছেন।এদেশে কোটি কোটি টাকায় সাংসদ-বিধায়ক কেনা বেচা হয়। সবাই জানে এদেশে ভোটের রাজনীতি এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। তবু এই দুর্গন্ধময়  সংসদীয় রাজনীতির দিগন্ত বিস্তৃত পরিসরের কোন এক কোণে এখনও পদ্মের খোঁজ মেলে,তার সুভাস এখনও আমোদিত করে কিছু মানুষকে। অসমের মারিয়ানি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মী আজকের নষ্ট ভ্রষ্ট পাঁক সর্বস্ব রাজনীতিতে তেমনই এক পদ্ম। দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রকাশিত   প্রতিবেদন অনুযায়ী এই মানুষটি তাঁর এলাকার এক গরিব নিঃস্ব মানুষের মৃত্যুর পর,তাঁর দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় আয়োজন করেই ক্ষান্ত হন নি,সেই দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে নিজেও কাঁধ দিয়েছেন। শনিবার অসমের জোরহাট জেলার মারিয়ানি এলাকায় মৃত্যু হয় দিলীপ দে নামে এক ব্যক্তির।এই দিলীপ দে নামের ব্যক্তিটি প্রতিবন্ধবী ছিলেন, তাঁকে দেখার ও পরিচর্যা করার মতো কেউ ছিল না।মৃত্যুর পর তাঁর দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার লোক না থাকায়,সেখাননকার এক প্রতিবেশী স্থানীয় বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মীকে খবর দেন। রূপজ্যোতি সেখানে পৌঁছে যান কিছু সময়ের মধ্যেই। তারপর দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য মাচা তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় আয়োজন করেন নিজেই।মাচা বহনের জন্য চারজন মানুষ দরকার কিন্তু তিনজনের বেশি মানুষ জোগাড় করতে না পারায় স্থানীয় বিধায়ক নিজেই কাঁধে করে দেহ নিয়ে যান শ্মশানে।এলাকার মানুষজন জানাচ্ছেন,রূপজ্যোতি এরকমই,উনি কোন দলের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতেই বেশী স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন,তাই তো ২০১৭ সালে অসম জুড়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পরা মানুষজনকে যখন চারিয়ালি পার্কে ক্যাম্প করে রেখে আসা হয়,তখন সেই দুর্গম এলাকায় খাবার পৌঁছে দিতে সমস্যায় পরে প্রশাসন কারণ সেখানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তখনও সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এসেছিলেন মারিয়ানির এই বিধায়ক। নিজেই চালের বস্তা কাঁধে করে নিয়ে গেছিলেন সেই দুর্গম এলাকায়। শনিবার এক নিঃস্ব ব্যক্তির দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে পৌঁছে দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আর এক সহনাগরিকের মৃত্যুর শবযাত্রায় হেঁটেছেন রূপজ্যোতি। স্থানীয় এক অটোচালক কবীর আহমেদ,চেয়েছিলেন তাঁর মায়ের জানাযায় যেন আসেন তাঁদের প্রিয় প্রতিনিধি। তাই কবীরকেও নিরাশ করেন নি রূপজ্যোতি,কাঁধে করে দিলীপ দের দেহ  শ্মশানে দাহ করে এসেই সে চলে গেছেন কবীরের মায়ের শবযাত্রায়। মারিয়ানি বিধানসভা থেকে পর পর তিনবার কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন রুপজ্যোতি কুর্মী। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও কোন সুযোগ সুবিধা আদিবাসী হিসেবে তিনি নেন নি।তাঁর কথায়- মানুষের জন্য,মানবিকতার টানেই কাজ করি।রুপজ্যোতিকে নিজের ছবি ছাপিয়ে সততার প্রচার করতে হয়নি,এলাকার মানুষজন তাঁকে তাঁর কাজ দেখেই নিজেদের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছেন।

মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা হাহাকার নিয়ে এদেশের রাজনীতিকদের একটা বড় অংশই যখন রাজনৈতিক লাভ লোকসানের হিসেব কষেন,যখন মানুষের লাশকে ব্যবহার করে ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে য়াবার কৌশল তৈরি করে ভোট সর্বস্ব রাজনীতি,তখন সেই রাজনীতির পরিসরের মধ্যে রূপজ্যোতি কুর্মীর উপস্থিতি বড় বেমানান বোধ হয়।আর সেই জন্যই বোধহয় মারিয়ানি এলাকার স্থানীয় মানুষজন তাঁদের বিধায়ককে পরিচিত রাজনীতিতে বিচিত্র বলেই মনে করেন  । যে দেশে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বন্যা পরিদর্শনে গিয়ে পায়ে জল যাতে না লাগে তার জন্য সরকারি নিরাপত্তা রক্ষীর কাধেঁ চেপে বসতে পারেন,যে দেশে এ রাজ্যের এক মন্ত্রীকে জুতো পরিয়ে দেয় তাঁর দেহ রক্ষী,যে দেশের নেতা নেত্রীরা ঠান্ডা ঘর আর গাড়ি ছাড়া চলা ফেরা করেন না,যে দেশে কোন রাজ্যের কোন পুরসভার কাউন্সিলাররা পর্যন্ত কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়,সেই দেশে থেকে, সেই রাজনীতির এক প্রতিনিধি যিনি নির্বাচিত বিধায়ক,সেই তিনি কিনা হত দরিদ্র এক মানুষের দেহ কাঁধে করে নিয়ে যান শ্মশানে!!!এদেশের রাজনীতির পাঁকে এখনও এরকম পদ্ম অবশিষ্ট আছে ভেবে বিস্ময় হয় বৈ কী!রূপজ্যোতিকে তাঁর এলাকার মানুষজন পরিচিত রাজনীতিতে বেমানান বলে মনে করেন। ঠিকই মনে করেন নিশ্চয়ই,আমরাও মনে করি এদেশের রাজনীতির চেনা চেহারার সঙ্গে মারিয়ানির কংগ্রেস বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মীর কোন মিল নেই। আমাদের সেই পরিচিত লোকগীতির কথা গুলো ব্যবহার করে বলতে ইচ্ছে হয়, -হিতা তোরে মানাইছে না রে,এক্কেবারে মানাইছে না। তবু মনে হয় এদেশের রাজনীতিতে যদি কোনদিন রূপজ্যোতি কুর্মীদের মতো বেমানান রাজনীতিকরাই সংখ্যাগরিষ্ট হয়ে যান,কেমন হবে? জানি স্বপ্ন-তবে সুখ স্বপ্নতো দেখতে বেশ লাগে অন্তত যতক্ষন চোখ বন্ধ থাকছে।

ছবির ডানদিকে রূপজ্যোতি কুর্মি  লেখক অনুপম কাঞ্জিলাল, প্রথম প্রকাশ ৪ জুন ২০১৮