শুধু বিক্ষোভ করায় বরখাস্ত ৮ রেল চালক,রেলের স্বৈরাচারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে চলেছে চালক সংগঠন

রেলের এক চালক দীর্ঘ দিন ছুটি না পেয়ে আত্মহত্যা করায়,ট্রেন চালকদের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি হয়।গত শনিবার সেই বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয় খড়গপুর রেল ডিভিশনে।ট্রেন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে এই বিক্ষোভ চলা কালীন সময়ে তাঁরা সংবাদিকদের উপর চড়াও হয় ও স্টেশন চত্বরে ভাঙচূর চালায়।শুধুমাত্র এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আটজন ট্রেন চালককে এককথায় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে খড়গপুর রেল ডিভিশন।ইতিমধ্যেই তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বরখাস্তের চিঠি।এইভাবে রেল চালকদের বরখাস্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে চালক সংগঠন থকে একাধিক রেল কর্মচারী সংগঠন।প্রতিবাদে মুখর হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরও।গত সোমবারেরই আটজন ট্রেন চালকের বরখাস্তের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে খড়গপুর ডিআরএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ট্রেন চালক সংগঠন ।রেলের বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনও এর প্রতিবাদে পথে নামবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বরখাস্ত হওয়া রেলের চালক সংগঠনের নেতা শুভেন্দু শূর জানিয়েছেন যে তিনি কোনভাবেই কোন ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত  ছিলেন না তা সত্ত্বেও শুধু মাত্র সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ট্রেন চালকদের ছুটি না দেওয়া নিয়ে রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।ট্রেন চালকদের অমানবিকভাবে ধারাবাহিক কাজ করে যেতে বাধ্য করা হয় বরাবর।এই কারণ নিয়েই সম্প্রতি রেল কতৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ শুরু হয় গুড্ডুকুমার নামের বছর সাতাশের এক ট্রেন চালকের।খড়গপুর ডিভিসনের এই চালক কয়েকদিন ছুটি নিয়ে ধানবাদে তাঁর বাড়ি যেতে চেযেছিলেন।অভিযোগ ছুটি মঞ্জুর না হওয়ায় সে আত্মহত্যা করেন।রেল প্রশাসন অবশ্য এই অভিযোগ মানতে রাজি নয়,তাদের দাবি নিয়ম মত ২৫দিনের বেশী ছুটি গুড্ডুকুমার নিয়ে নিয়েছিল,তাই তাঁর আর ছুটি অবশিষ্ট ছিল না।তবে সহকর্মী গুড্ডুর এরকম আকস্মিক আত্যহত্যায় রেল কতৃপক্ষের হৃদয়হীনতাকে দায়ী করে বিক্ষোভ শুরু করেন অন্যান্য চালকেরা।তারই পরিণতি আটজনের বরখাস্ত হওয়া।এরকম একটা ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ কেন মানবিকতা সহকারে বিষয়টা না দেখে এতটা আক্রমনাত্মক হয়ে উঠল,তা নিয়ে সব স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ গোটা দেশে যে কোন নাগরিক অধিকারের উপর যে আক্রমন শুরু হয়েছে এটা তার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট,যে কোন প্রতিবাদ আন্দোলনকে ভয় পাইয়ে দিতেই এই চরম সিদ্ধান্ত।এটা সরকারের স্বৈরাচারি মানসিকতারই নমুনা।আর একটা প্রশ্ন উঠছে এভাবে শুধু বিক্ষোভ দেখানোর অপরাধে কোন সরকারি কর্মচারিকে বরখাস্ত করা যায়?আইন বলছে রেল প্রশাসনে এরকম একটা কালা কানুন এখনও আছে যার প্রয়োগে রেলের কর্মীদের এ ভেবে বরখাস্ত করা যায়।এই কালা কানুন প্রয়োগ সাধারণত হয় না বলে যে কখনও হবে না, তা যে নয় এই ঘটনা তা প্রমাণ করে দিল।রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার যে ভাবে নাগরিকদের গণতান্ত্রীক অধিকার হরণ করে,প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সব রাস্তাকে বন্ধ করতে চাইছে,এই স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত তার প্রমাণ বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।