অশোভনীয় প্রচারের জেরে চাপা পড়ে যাচ্ছে না তো সত্যিটা?

রাজ্য রাজনীতিতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রীত্ব ও মেয়র পদ থেকে ইস্তফাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে তার নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।শোভনবাবুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তাঁর বান্ধবী বৈশাখীকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মামলা,তার কাজে মন না দেওয়া এই সব বিষয়ে আলোচনা চলছে।তবে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে না এবং যে বিযয়গুলো মিডিয়া এড়িয়ে যাচ্ছে সেগুলির উপর আলো না পড়লে মূল রহস্যের সমাধান কখোনই হবে না।প্রথমত,একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের  ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্কের টানাপোড়েন আসতেই পারে,তাতে রাজ্যরাজনীতি এমন উথালপাতাল হবে কেন?একজন রাজনীতিক নেতার রাজনীতির জীবনে  ব্যক্তিজীবনের সম্পর্কের টানাপোড়েন  কী করে এতটা প্রভাবিত করলো।   মিডিয়াতে শোভনবাবুর ব্যক্তিজীবন নিয়ে যেভাবে খবর চালনা হয়েছে তা শুধু টিঅারপির জন্য নাও হতে পারে । এর পিছনে  কোন অংশের  সুপরিকল্পনাও থাকতে পারে ? শোভনবাবু বারবারই বলতে চেয়েছেন তার পেশাগত জীবনে বৈশাখি দেবীর কোন হস্তক্ষেপ বা প্রভাব নেই। তাই যদি হয় তাহলে বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তাঁর কাজ কর্মে তার প্রভাব পড়ছে বলা হচ্ছিল কেন?  প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক,কোন অংশ  কী চেয়েছিল যে শোভনবাবুর ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে তাঁর রাজনৈতিক জীবন অনিশ্চিত হয়ে উঠুক?শোভনবাবু বার বার দাবি করছেন তিনি তাঁর কাজে কোন ফাঁকি দেন নি।তবে কেন তাঁর দলের নেত্রী  বার বার কাজে মন দিতে বলে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন?তবে কী ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টা অজুহাত হিসেবে খাঁড়া করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হচ্ছিল? তা হলেও প্রশ্ন উঠবে কেন তা করা  হয়েচ্ছিল?যে শোভনবাবু ক্যামেরার সামনে রুমালে ঢেকে টাকা নিচ্ছেন দেখা যাওয়ার পরেও তাকে সরিয়ে দেওয়ার ভাবনা দলের মাথায় আসেনি সেই শোভনবাবুকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে সরিয়ে দিতে ত ব্যস্ত হল কেন তাঁর দল?যে দিন শোভনবাবু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন,সেদিনই খোদ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শোভনবাবুর বিরুদ্ধে বিধানসভায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন।এই তথ্যতো শোভন বাবুকে দিয়েছিলেন তাঁর দপ্তরের সচিব,শোভনবাবুর দাবি তেমনটাই,তা হলে এই প্রশ্নতো স্বাভাবিক তাঁকে হেনস্তা করতেই কী ইচ্ছাকৃতভাবে ভূল তথ্য দেওয়া হয়েছিল?এই সব প্রশ্নের  উত্তর না মিললে রহস্যের গভীরে যাওয়া যাবে না,জানা যাবে না বিতর্কের কেন্দ্র কোনটা। কে বা কারা কোন  ষড়যন্ত্র করেছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না  সব মিলিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে  বিতর্ক  একেবারেই একমাত্রিক নয় , শুধু কিছু অশোভনীয় অালোচনায় তা মুড়ে ফেলা ঠিকও নয়।