এয়ারসেল ম্যাক্সিস মামলায় পি চিদম্বরমকে গ্রেফতার করতে চাইলেও ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা করতে পারছে না সিবিঅাই

এয়ারসেল-ম্যাক্সিস মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী চিদম্বরমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে ইডি ও সিবিঅাই। উভয় সংস্থার দাবি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাই তাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে তারা। ২৬ নভেম্বর  বিশেষ অাদালতকে সিবিঅাই জানিয়েছে পি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন সরকারের তরফে তারা পেয়েছে। বিচারপতি অবশ্য ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিদম্বরমকে গ্রেফতর না করার নির্দেশ দিয়েছে।  ইতিমধ্যেই এয়ারসেল – ম্যাক্সিস মামলায় চিদম্বরমকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করেছে সিবিঅাই।  চিদম্বরম অবশ্য দাবি করেছেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব  হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেনস্তা করা হচ্ছে। সিবিঅাইয়ের পাশাপাশি  ২০০৬ সালে এয়ার সেল -ম্যাক্সিসকে অন্যায়ভাবে  বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার জেরে ঘুষের টাকার  লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করছে ইডি। সেই সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন চিদম্বরম। তাঁর পদের অপব্যবহার করেই নাকি এয়ারসেল ম্যাক্সিসকে ৩৫০০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন পাইয়ে দিয়েছিলেন চিদম্বরম পুত্র কার্তি। এর অাগে সিবিঅাইয়ের দাখিল করা চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছে নিয়ম ভেঙে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়ায় একবার ২৬ লক্ষ টাকা ও দ্বিতীয়বার  ৮৭ লক্ষ টাকা লাভবান হয়েছেন চিদম্বরমের পুত্র কার্তি চিদম্বরম। ইতিমধ্যে কার্তিকে গ্রেফতারও করেছিল একবার। অাপাতত জামিনে মুক্ত অাছেন তিনি।

 

এয়ারসেল -ম্যাক্সিস চুক্তিতে বিদেশি বিনিয়োগের আইন লঙ্ঘনে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের ভূমিকার বিষয় সুপ্রিম কোর্টে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিল ইডি। এয়ারসেল ম্যাক্সিস চুক্তিকে চিদাম্বরম  যে অন্যায়ভাবে ছাড় দিয়েছিলেন সেই বিষয় তাঁর কাছে  কী প্রমাণ আছে তা বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীকে দাখিল করতে বলেছিল সর্বোচ্চ আদালত। সরাসরি বিদেশি  বিনিয়োগরে ঊর্ধ্বসীমা যে ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত তা কি চিদম্বরম জানতেন? তাও স্বামীকে জানাতে বলে সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৬ সালে ৩৫০০ কোটি টাকার এয়ারসেল ম্যাক্সিস চুক্তিতে অভিযোগ ওঠে মালেশিয়ার ম্যাক্সিস কোম্পানিকে এয়ারসেল কিনতে ৭০০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময় সাহায্য করেন তত্কালীন টেলিকম মন্ত্রী দয়নিধি মারান ও তার ভাই। যদিও সম্প্রতি দিল্লির এক আদালত উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে মারাণ ভাইদের অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছে। ৩০৫ কোটি অাইএনএক্স মিডিয়া মামলাতেও চিদম্বরমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।