মধ্যপ্রদেশে সরকারি হাসপাতালে জ্যোতিষের opd ! আধ্যাত্মিক সভায় ডাক্তারদের যোগ দিতে এরাজ্যে সরকারি হাসপাতালে জারি সার্কুলার

0
10

একেবারে সরকারি সার্কুলার দিয়ে আধ্যাত্মিক সভায় যোগ দিতে বলা হয়েছে ডাক্তার ও সরকারি স্বাস্থ্য কর্মীদের।ন্যাশনল মেডিকেল কলেজে আগামি  ১৭ তারিখে হতে চলেছে প্রজাপিতা ব্রহ্মকুমারীর  আধ্যাত্মিক সভা। মেডিকেল কলেজ দুটির রোগীকল্যান সমিতি এই সভার আয়োজক।বলা হচ্ছে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মনসংযোগ বাড়াতেই এই সভার আয়োজন।তবে নানা মোহলে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।কেন ডাক্তারদের আধ্যাত্মিক সভায় ডেকে মনসংযোগ করতে বলা হবে তা নিয়ে নানা বিতর্কও উঠতে শুরু দিয়েছে।ডাক্তারদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন হাসপাতাল গুলোতে চিকিত্সা পরিকাঠামোর উন্নয়ন না করে অস্থিরতা কাটাতে এ ধরনের কর্মসূচি আসলে সমস্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা,যেখানে দরকার আর পরিকাঠামো,আর চিকিত্সকের সেখানে ডাক্তারদের বলা হচ্ছে আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে মনকে স্থির করে কাজে মননিবেশ করতে,তাহলে তো স্বীকার করে নিতে হয় ডাক্তাররা মোনসংযোগ করতে পারছেন না বলেই হাসপাতালে হাসপাতালে অরাযোগ অবস্থা তৈরি হচ্ছে।এতো পরক্ষে ডাক্তারদেরই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার চেষ্টা।ওয়েষ্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের পক্ষে রেজাউল করিম পরিষ্কার জানান,এসব করে আসলে সমস্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।পরিকাঠামো দিতে পারছে না,ডাক্তারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন আর এখন এসব করে সমস্যার মূল থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে চাইছে সরকার।তাঁরা যে প্রয়াসের বিরোধিতা করবেন তাও জানান ডাক্তার করিম।তবে শুধুই কী সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা নাকি এর পেছনে ধর্মীয় সুরসুরি দেওয়ার প্রয়াসও রয়েছে?এ প্রশ্নের উত্তরে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের পক্ষে ডাক্তার পুর্নেন্দু গুন বলেন,আসলে এ রাজ্যের শাসক দল বিজেপিকে আটকাতে নানা ভাবে বিজেপির কর্মপন্থাকে আপন করে নেয়,এখানেও সেটাই দেখা যাচ্ছে বিজেপি যে কাজ রামদেবকে দিয়ে শুরু করেছিল,এঁরাও আধ্যাত্মিক সভা দিয়ে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিজেপির দিকে ঢলে পড়া আটকাতে চাইছে।কেউ কেউ বলছেন মোনসংযোগ করতে যে কেউই আসন বা ধ্যান করতে পারেন,কিন্তু সরকার সেই কর্মসূচিতে জড়িয়ে যাবেন কেন?তবে কী বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানহীনতাকে একাকার করে দিতে চাইছে সরকার?সরকারের এই প্রয়াসের নিন্দা করতে শুরু করেছে রাজ্যের একাধিক বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংগঠনও।তবে অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা তৃণমূলের চিকিত্সক সংগঠনের নেতা ও সাংসদ ডাক্তার শান্তনু সেন মিডিয়াকে জানিয়েছেন এ কর্মসূচীর সঙ্গে ভগবান বা আধ্যাত্মিকতার কোন যোগ নেই,এটা এক ধরনের মানসিক সুস্থিরতার ব্যায়াম মাত্র। কিছুদিন অাগে  মধ্যপ্রদেশের সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য উদ্ধারে অাউটডোরে জ্যোতিষদের দিয়ে চিকিত্সা করানো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি সরকার। সেই দিকেই কি হাঁটা শুরু এরাজ্যেরও ?