ভয় পায় বলেই কি কর্মীদের উপর শাস্তির খাড়া? কাড়তে চায় অধিকার?

এ রাজ্যের সরকার যে ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মচারিদের ইউনিয়নকে ভেঙে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তাতে গণতান্ত্রীক অধিকার সুরক্ষিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছে একাধিক কর্মচারি ইউনিয়ন।সম্প্রতি নবান্নে কো-অডিনেশন কমিটির সদস্যদের বিক্ষোভের জেরে যে ভূমিকা সরকার নিয়েছে তাতে স্পষ্ট স্বৈরাচারের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্য কো অডিনেশন কমিটির নেতারা।রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক বিজয় সিং জানিয়েছেন,আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত কর্মচারিদের ইউনিয়ন করার অধিকারকে যে ভাবে বাতিল করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার তাতে বোঝা যায় এরা ফ্যাসিস্ট আচণের দিকে যাচ্ছে।নবান্নে বিক্ষোভ করার কারণে যে ভাবে সরকারি কর্মীদের বদলির নিদান শোনান হয়েছে তা নিয়ে তারা যে আর বড় আন্দোলনের দিকে যাবে তা জানিয়ে দেন বিজয় সিং।নবান্নে বিক্ষোভের জেরে সরকারি কর্মীদের বদলির নিন্দা করেছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরও।এপিডিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সরকার গণতান্ত্রীক অধিকার হরণ করতে লাগাতার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।সরকারি কর্মচারি সংগঠন নব পর্য়ায়ের পক্ষ থেকেও সরকারের এই স্বৈরাচারি আচরণকে তীব্র ধিক্কার জানানো হয়েছে।নব পর্যায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাম আমলে তারা মহাকরণে বার বার বিক্ষোভ জানিয়েছেন তবে এরকম আক্রমনের মুখে তাঁদের কখোন পড়তে হয় নি,বর্তমান সরকার যে কোন আন্দোলন বিক্ষোভকে চাপা দিতে চরম স্বৈরাচারি পদক্ষেপ নিচ্ছে।বিজেপি ও তৃণমূল যে মতাদর্শগত ভাবে একই বিন্দুতে অবস্থান করে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসক দলের বিভিন্ন আচরণে তা বার বার সামনে চলে আসছে বলে মনে করে নব পর্যায়ের নেতারা।সম্প্রতি দমকল কর্মীদের জন্য ওয়োল ফেয়ার বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া যে সেখানকার কর্মীদের ইউনিয়নকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেবে তা খোলাখুলি স্বীকার করে নব নিযুক্ত দমকল মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম জানিয়েছেন যে সরকার যদি কর্মীদের সব দাবিদাওয়া এমনিতেই মিটিয়ে দেয় তাহলে আর ইউনিয়নের দরকার কী!সরকার কর্মীদের সব দাবি মিটিয়ে দেবে মন্ত্রীর এই দাবির পরে তাঁকে কেউ অবশ্য জিজ্ঞাসা করার সাহস করে নি যে সরকার যদি সব দাবি মেটাতে এতটাই ব্যগ্র তা হলে কেন সরকারি কর্মীদের ডিএ বাকি পড়ে থাকে দিনের পর দিন?কেন পে কমিশনের কাজ শেয হয় না নির্দিষ্ট সময়ে.কেন তার মেয়াদ বাড়তেই থাকে?এ রাজ্যের সাংবাদিকদের এসব প্রশ্ন করার সাহস না থাকাকেও একাধিক কর্মচারি সংগঠনের নেতারা রাজ্য জুড়ে ফ্যাসিবাদি-স্বৈরাচারি আবহ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন।

,