সুমন চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিচারিতা ও মিডিয়া

সুমন চট্টোপাধ্যায় এ রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমে জগতে এক অতিপরিচিত নাম,সাংবাদিক মহলে তাঁর ভক্তের সংখ্যাও নেহাত কম নয়,কোন কোন অর্বাচিন তো আবার ওনাকে সংবাদ জগতের গুরু ঠাকুরও বানিয়ে ফেলেছেন।য়েহেতু গুরুবাদে আমাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই,তাই বাস্তবতা ও সত্যের নিরিখে কিছু কথা আমরা বলতে চাইবো,আমরা মনে করছি এই বিষয়গুলো তুলে ধরা আমরা সাংবাদিকতাকে যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে চাই তার দায়ও বটে।সুমনবাবু সাংবাদিক হিসেবে দক্ষ হতেই পারেন,দীর্ঘদিন একটা পেশায় থাকলে দক্ষতা অর্জন করাও কোন আশ্চর্য বিষয় নয়,কিন্তু সাংবাদিকতার প্রধান গুন সততা,নিরপেক্ষতা,আদর্শ-নৈতিকতাবোধ,সুমনবাবুর অতিবড় ভক্তও দাবি করবেন না যে তিনি এসবের প্রতি বিন্দু মাত্র আগ্রহ কোনদিন দেখিয়েছেন।সাংবাদিক হিসেবে ক্ষমতা ও মুনাফা ছাডা় সুমনবাুদের মত সাংবাদিকরা কিছু ভাবেন নি,বরং আমাদের প্রত্যক্ষ অভিক্ষতা বলছে কোন সাংবাদিক যদি এসব নিয়ে কথা বলতে চাইতেন তবে তিনি তাঁকে আ্যকটিভিস্ট বলে দেগে দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করতেন,সাংবাদিকতা আর আ্যকটিভিজমের মধ্যে কতটা ফারাক,ভাবটা এমন যেন উনি ছাড়া সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা নির্ধারণের এক্তিয়ার কারোর নেই। সাংবাদিকতাকে নিলামে চড়াতেও কোন কুন্ঠা বোধ করেন নি সুমন,এ বিষয়ে আমাদের জানা একটা তথ্য এখানে তুলে ধরছি,একদিন সংবাদপত্র শুরু করার প্রথম দিকে  তাঁর এক সাংবাদিক সাউথসিটি তৈরৈ নিয়ে বড় অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে ফেলেন।তিনি যাবতীয় তথ্য সুমনবাবুর সামনে হাজির করলে সম্পাদক সুমন চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন এই খবর গোটা বাংলা কাঁপিয়ে দেবে।এর কিছুদিনের মধ্যেই দেখা যায় সাউথসিটি কর্তৃপক্ষ সুমনবাবুর  সঙ্গে বৈঠক করছেন। এর পর সেই সাংবাদিককে ডেকে সুমনবাবু বলেন , যা ভাবা গেছিল তা নয় আসলে সাউথসিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষেও কিছু বলার আছে। তরুণ সেই সাংবাদিক সুমনবাবুকে বলেন তা হলে তো দু পক্ষের বক্তব্য দিয়েই সংবাদটি প্রচার করা যায়,যুক্তির ধারে যে সাউথ সিটি পারবে না বুঝে সংবাদটিকে একেবারে  উলটে দেন  সুমন চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে চট্টোপাধ্যায় সে সময় সাউথ সিটি কতৃপক্ষের সঙ্গে  যোগসাজস করে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন ।যেহেতু সেই সাংবাদিক সুমনবাবুর কথা মত সংবাদটিকে আন্ডার প্নে করতে সুমনের সঙ্গে সহমত হন নি তাই শেষ পর্যন্ত তাকে একদিন ছাড়তে বাধ্য করেন।কথা আর কাজে ফারাক রাখাটা অভ্যাসে পরিণত করেছেন সুমন,বড় বড় কথা বলে কাজে চাটুকারিতা করে গেছেন বরাবর।প্রাভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ধরে নানা সুযোগ সুবিধা বাগিয়েছেন, সংবাদ মাধ্যমের মাথায় থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার মধু চুষে গেছেন,আর মুখে সাংবাদিকতার আদর্শ নিয়ে বুলি কপচেছেন।যখন যে দল ক্ষমতায় তার চাটুকারিতা করেছেন,আবার ব্যক্তি ল্বার্থে ঘা পড়লে নিজের অবস্থানের সুযোগ নিয়ে কোন কোন ক্ষমতাবানদেরও বিরুদ্ধাচারণ করতে ছাড়েননি।এ হেন সুমন চট্টোপাধ্যায় তার নিজের সংবাদপত্র জন্য আইকোর নামের এক চিটফান্ডের সঙ্গে চুক্তি করেন।অভিযোগ দিশা    প্রোডাকশন ও মিডিয়া লিমিটেট নামের সুমনের সংস্থার সঙ্গে আইকোরের চুক্তি হয়.সংবাদপত্র চালাতে আইকোর টাকা দিলেও সুমন নাকি সংবাদপত্রের আয়ের অংশ আইকোর কে দিতে অস্বীকার করেন।আইকোর এই অভিযোগে বেশ কয়েক বছর আগেই পার্কস্ট্রিট থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত  করে।এরপর সিবিআই এর নজরে পড়েন সুমন চট্টোপাধ্যায়।একাধিক বার তাঁকে জেরা করা হয়েছে,অতপর বৃহস্পতিবার আইকোরের ১২ কোটি টাকার হিসেব গড়মিলের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্য়ায়কে।শুধু আইকোরই নয় তাঁর বিরুদ্ধে সারদার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ আছে।

সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে এ রাজ্যের সব মিডিয়ার হীরন্ময় নিরবতা অবাক করেছে অনেককেই।আমরাও জানতে চাই কেন কুণাল ঘোষ গ্রেফতার হলে বড়।  করে খবর হয় অথচ সুমনের ক্ষেত্রে চেপে দেওয়া হয়?   সংবাদ মাধ্যমের কোন নামি ব্যক্তিরবিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা খবর নয় কেন? চিট ফান্ড এ রাজ্যের হাজার হাজার মানুষকে রিক্ত-নিঃস্ব করে দিয়েছে,যদি অভিযোগ ওঠে সংবাদ মাধ্যমের কোন এক কর্তা ব্যক্তি সেই টাকা আত্মস্যাত করেছে তাহলে তা খবর হবে না কেন?কাক নাকি কাকের মাংস খায় না,এসব বোকা যুক্তির মানে কী!সংবাদ মাধ্যমের স্বার্থেই তো দরকার এইসব দুর্নীতিবাজদের সম্পর্কে সকলকে সাবধান করে দেওয়া।সংবাদ মাধ্যমে সুমনদের মত লোকজনদের আড়াল করতে কোন নেক্সাস কাজ করছে তা ধরিয়ে দেওয়াটাও বোধহয় জরুরি।কুনাল ঘোষ যদি অভিযুক্ত হয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রচারে চলে আসেন, যদি তাঁর ছবি দিয়ে টিভিতে সারাদিন খবর হতে পারে তাহলে কোন যুক্তিতে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের বেলায় তার অন্যথা হবে?আমরা জানি প্রশ্নটা সহজ হলেও উত্তরটা কঠিন।তবে কঠিন উত্তর আমরা খুঁজবোই,যেহেতু আমরা কোন প্রভাবশালী দাদা বা বাবুধরা সাংবাদিকতা করি না তাই কিছু অর্বাচিন স্তাবক সাজার অভ্যাস আমরা ত্যাগ করতে পারবো,সত্যের উপর আলো ফেলার তাগিদ আমাদের থাকবেই।দ্বিচারিতায় অভ্যস্ত সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে আমাদের কোন মোহ নেই,সাংবাদিকতাকে কলঙ্কিত-লজ্জিত করবে যারা আমরা তাদের চিহ্নিত করবোই।এ রাজ্যের সাংবাদিকতাকে যারা কলঙ্কিত করছে,সাংবাদিকতার স্বার্থেই তাঁদের চিনে নিতে হবে । তালিকাটা ছোট নয়।

ছবি নিউজ লন্ড্রির সৌজন্যে

,