প্রয়াত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রোবর্তী,স্মরণে শ্রদ্ধার পাশাপাশি থাকুক কিছু প্রশ্নও

রবিবার প্রযাত হলেন প্রখ্যাত কবি নীরেন্দ্রনাখ চক্রোবর্তী।তাঁর কাব্য প্রতিভা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলার উপায় নেই।তিনিই তো সেই কবি যিনি বাংলা কবিতাকে কল্পনার রোম্যান্টিক ভববিহ্বলতা থেকে  এনে ফেলেছিলেন বাস্তবের রূঢ় মাটিতে।তাই তো তিনিই বলতে পারেন কল্পনা পেছনে ছোটা তাঁর সাধ্যাতীত।কবিতাকে তিনি দেখেছেন শহরের এর এঁদো গলিতে,আদর্শ তাড়িত জীবন বোধে।তাই তো তিনি হতে পারেন কলকাতার জিশু নির্মাতা।ডক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হতে চেয়ে অমলকান্তিকে রোদ্দুর হতে প্ররোচিত করতে তিনি ছাড়া আর কেই বা পারতেন?রাজ ভজনাকে তীব্র আঘাত করে মেরুদন্ড সোজা রেখে সোজা কথাটা বলার হিম্মত দেখানোর দুর্নিবার আকর্ষণই তো তাঁকে উলঙ্গ রাজার কারিগড় হতে প্রেরণা জুগিয়েছিল।ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার তাগিত তো তারই সৃষ্টি।এমন মহত মহান সৃষ্টি কর্ম তাঁকে শুধু  বাঙালি কেন দেশের অনেক মানুষের মধ্যেই বাঁচিয়ে রাখবে অনেক অনেক দিন।৯৪ বছর বয়সে মৃত্ত্যুর পরেও তাঁর জন্য যে শূন্যতার বোধ তা তো শুধু এই কারণেই।আর এই সূত্রেই কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে নিয়ে শ্রদ্ধার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও থাকবে।জানি সদ্য প্রয়াত কোন স্রষ্টা সম্পর্কে রূঢ় ভাষণের রীতি বাঙালি সমাজ অনুমোদন করে না,তবু চিরাচরিত ভবনাকে ধাক্কা দিয়েই আমরা প্রশ্ন তুলতে চাইবো,যে কবি রাজ দাবেদারির বিরুদ্ধে রাজাকে সত্যোর মখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে চান,ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে প্রেরণা দিতে চান,সেই তিনি নিজে কেন সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামে রাজ বিভিষিকা দেখেও নীরবতা পালন করতে করতে দ্বিধা করেন নি{আর তার পর,পরিবর্তনের জামানায রাজ্য জুড়ে একের পর এক ঘটনা ঘটে গেলেও তিনি কোন একবারও রাজার উলঙ্গ থাকার স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন না।শিল্পি সত্তা আর ব্যক্তি সত্তার ব্যবধান যখন এতটা বেড়ে যায় তখন মনে হওয়া কি খুব অস্বাভাবিক যে আসলে কবি এক হিসেবি অবস্থানই অবলম্বন করতে চাইছেন?জীবনের শেষ বেলায় পৌঁছেও এতটা হিসেবি অবস্থান, নীরেনবাবুকে নিয়ে আমাদের অস্বস্তিতেই রাখে।অমলকান্তির রোদ হতে চাওয়া,কিংবা রাজার পোষাক না থাকাকে উন্মোচনের তাগিদ ওয়ালা কবি নীরেন্দ্রনাথকে আমরা ব্যক্তি নীরেন্দ্রনাথের মধ্যে খুঁজে পাই না,বরং সেখানে তাঁকে দেখা যায় রাজশক্তির সঙ্গেই গা ঘেষাঘেষি করছেন।আমাদের অস্বস্তি হয়,কষ্ট হয়,প্রশ্নও তৈরি হতে থাকে।তাই কবির মৃত্যুর পরেও তাঁকে শুধুই অসার বন্দনা করতে আমরা অপারকই থেকে গেলাম,ক্ষমা করবেন।