রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর প্রচার

 বৃহষ্পতিবার বীরভূমের ইলমবাজারে এক সভায়  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা জানুয়ারিতে সব দিয়ে দেবেন। ব্যাপারটা যেন এরকম এটা কোন নতুন ঘোষণা। বাস্তব ঠিক এর উল্টো।  গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন বকেয়ে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার। যা কার্যকর হবে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে। শুধু তাই নয় এর ফলে রাজ্যের সরকারী কর্মীরা যে ১০ শতাংশ ইন্টারিম রিলিফ পাচ্ছেন তা অার তারা  পাবেন না। এই ঘোষণার পর রাজ সরকারি কর্মীদের নানা সংগঠন তখনই  অভিযোগ করেছিলেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। একদিকে কেন্দ্রীয় কর্মীদের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতার ফারাক যেমন থেকে যাচ্ছে তেমনই বিশ বাঁও জলে তলিয়ে যাচ্ছে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বিষয়টি। বৃহষ্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী পুরনো ঘোষণা নতুন ঢঙে ফের  জানানোর পর মিডিয়া জুড়ে প্রচার হতে শুরু করলো রাজ্য কর্মচারীদের জন্য সুখবর। বকেয়া মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা কি নিছকই বিষয়টি বুঝতে না পেরে মিডিয়ার ভুল তথ্য পেশ করা?  নাকি সরকারের ধামা ধরতে গিয়ে ইচ্ছেকৃতভাবে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?

   রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা দয়ার দান নয়, অধিকার, হাইকোর্ট এই পর্যবেক্ষণ করার পরও মিডিয়ার প্রচারের ঢঙ যেন এমন সরকারি কর্মীদের বকশিস দিচ্ছে সরকার, সর্বপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্যবিত্ত মানুষের একটা বড়  অংশের মধ্যেও সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে ভাল মনোভাব নেই। এর কারণ যদি একদিকে সরকার, মিডিয়ার অপপ্রচার হয়ে থাকে  অন্য কারণ অবশ্যই  সরকারি কর্মীদের একটা  বড় অংশের নাগরিকদের প্রতি অাচরণ অাদৗে সহ নাগরিক সুলভ না হওয়া। এই অাবহে রাজ্য সরকার বা রেলের বোনাস নিয়ে মিডিয়ার ভুল তথ্য পরিবেশনের বিরোধিতা করা উচিত কর্মী সংগঠনগুলিরও। তা না হলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার অাসলে সরকারের দয়ার দান হিসাবেই বৃহত্তর জনতার কাছে পরিবেশিত হবে। অাদালত যাই বলুক না কেন।