অালিপুরদুয়ারের জেলাশাসককে কেন গ্রেফতার করা হবে না?

তিনি নাকি অালিপুরদুয়ার জেলার প্রধান প্রশাসক,তাঁর হাতেই নাকি জেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ভার,আর সেই তিনিই থানায় ঢুকে এক যুবককে বেধরক মারছেন,বলছেন তিনি ঐ যুবককে মারতে মারতে খুনও করে ফেলতে পারেন,থানার ভেতর এক জেলাশাসকের এই ভয়ঙ্কর গুন্ডামির সঙ্গি তাঁর স্ত্রীও।আর থানার বড় বাবু থেকে শুরু করে সব পুলিশকর্মী নীরব দর্শক।প্রহৃত হতে থাকা যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি ঐ জেলাশাসকের স্ত্রী সম্পর্কে ফেস বুকে অশ্লীল মন্তব্য পোস্ট করেছেন।আমাদের প্রশ্ন,কেউ যদি আইন বিরুদ্ধ কাজ করেন তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়াই উচিত,কিন্তু সেই আইনের শেয কথা জেলাশাসক হন কোন যুক্তিতে,কোন আইন মেনে থানার মধ্যে একজন জেলাশাসক এরকম গুন্ডামি করতে পারেন?আলিপুর দুয়ারের জেলাশাসক ফালাকাটা থানার মধ্যে ঢুকে যে গুন্ডামি করেছেন,যে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গেছে,তারপর কী ভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব যে আইন সবার জন্য সমান!অভিযুক্ত যুবক সোশ্যাল মিডিয়াতে আইন বিরুদ্ধ কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে,নেওয়া উচিত এ বিষয়ে আমাদের কোন দ্বিমত নেই কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থাকবে,কেন আইন রক্ষার শপথ নিয়ে চাকরীতে যুক্ত হওয়া একজন আমলার বিরুদ্ধে আইন বিরুদ্ধ কাজের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে না,এক্ষেত্রে তো তাঁর অপরাধ আর‍ো বড় কারণ আইন সম্পর্কে তাঁর ধারনা স্পষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক তিনি সে বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত।

আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এদেশের আমলা ও পুলিশ মূলত ক্ষমতাবানদের দাসত্ব করতে অভ্যস্ত,বিবেক-মনুষ্যত্ব-মানুবিকতার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার সংস্কৃতিতে এঁরা রপ্ত হতে শেখেন না।লাগাতার ক্ষমতাবানদের চাটুকারিতা করতে করতে এঁরা অধিকাংশই এক একজন নিকৃষ্টজীবে পরিণত হতে থাকেন।তারই প্রমাণ রাখলেন আলিপুরদুয়ারের এই জেলাশাসক।যে ভাবে থানায় ধরে এনে একদল পুলিশের সামনে একজন অভিযুক্ত যুবককে লাগাতার চড়,ঘুষি,লাথি মেরে যেতে থাকলেন,যে ভাবে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করলেন তাতে তাঁকে শিক্ষিত মানুষ ভাবতে লজ্জাই হয়।এদেশ ও রাজ্যে সাধারণ মানুষ কোন সমস্যায় পড়লে পুলিশের সাহায্য পেতে সময় গড়িয়ে যায়,আর ক্ষমতাবানদের কোন সমস্যা হলে পুলিশ একেবারে সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে,এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে,ঐ জেলাশাসক অভিযুক্ত যুবককে বেদম পেটাতে পেটাতে উচ্চস্বরে বলে চলেন,”আমি যদি তোকে আধঘন্টার মধ্যে থানায় নিয়ে আসতে পারি,তবে আমি তোকে মেরেও ফেলতে পারি”বাঃ কী চমতকার আইনি ভাষা,কী সুন্দর আইনি নিরপেক্ষতা!

অভিযুক্ত যুবকের দোষ প্রমাণ হলে তাঁকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক,একই সঙ্গে আমাদের দাবি গ্রেপ্তার করা হোক এই জেলাশাসককেও।তিনিও আইন ভেঙেছেন,থানায় ঢুকে মস্তানি করেছেন,অসভ্যতা করেছেন।যে ভাবে বিষয়টা নিয়ে আলোড়ন উঠেছে তাতে হয়তো প্রশাসন ঐ জেলাশাসককে বদলি করে দেবেন,মানবাধিকার সংগনের সঙ্গে সহমত হয়ে আমরা দাবি করবো ওঁর গ্রেফতারের।ওঁকে গ্রেপ্তার না করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।ভিডিও যে ছবি ধরা পড়েছে তাতে কারোর বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক আদপে আইনের শাসন ভাঙতে অভ্যস্ত একজন খিস্তিবাজ গুন্ডা,তাই এই ধরনের গুন্ডাকে সরকারি খরচে জামাই আদর দেওয়ার চেয়ে জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখাই শ্রেয়,সেটাই এদের অপযুক্ত স্থান।তা না হলে বুঝতে হবে আইনের চোখে সবাই সমান কথাটা আসলে শুধুই কথার কথা,যার বাস্তব মূল্য এক কাণাকড়িও নয়।