স্কুুলে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের ভাবনা কি স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ না করার কৗেশল ?

রাজ্যজুড়ে শিক্ষার অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে।লেখাপড়ার মান যেমন নামছে,তেমনি স্কুলে স্কুলে নানা সমস্যার কারণে অচলবস্থা তৈরি হচ্ছে।এরই মধ্যে আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন থমকে রয়েছে স্কুল শিক্ষক নিয়োগের সরকারি উদ্যোগ।স্কুলে স্কুলে তাই এখন শিক্ষক না থাকার সমস্যা।একদিকে রাজ্যজুড়ে বিশাল বেকারিত্ব অন্যদিকে ফাঁকা পড়ে থাকছে স্কুল শিক্ষকের একাধিক পদ।এরই মধ্যে রাজ্য জুড়ে স্কুলে স্কুলে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিল রাজ্য সরকার।সোমবার নবান্নে এ বিষয়ে এক জরুরি বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন তারা স্কুলে শিক্ষক না থাকার সমস্যার মোকাবিলায় ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের ভাবনা শুরু করেছেন।স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ ছেলে মেয়েদের ইন্টার্ন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।এর জন্য প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের ২০০০ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের ২৫০০ টাকা করে স্টাইপেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।নবান্নের বৈঠকে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী্ ছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ও রাজ্যের একাধিক শিক্ষা আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক খুব ভাল হয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন স্কুলে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টা তাঁরা যততাড়াতাড়ি সম্ভব ঘোষণা করে দেবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই নানা স্তরে প্রস্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে,তবে কী এবার কলেজের মত স্কুলেও অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রথা চালু হতে যাচ্ছে?এই ব্যবস্থা রাজ্যের বেহাল শিক্ষা পরিস্থির হাল আদৌ ফেরাতে পারবে কীনা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।তা ছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ ছেলেমেয়েদের নির্বাচিত করা হবে কীসের ভিত্তিতে,সেখানেও কী দলীয় কোন খবরদারি কাজ করবে তা নিয়েও সংশয় আছে অনেকের মধ্যে।তবে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট মাত্রাবহ বলেই মনে করছেন কেউ কেউ।ইতিমধ্যেই যারা স্কুল শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় পাশ করে বসে আছেন তাদের কারোর কারোর আবার আশঙ্কা এই পদ্ধতিতে রাজ্য সরকার স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে চাইছে নাতো।সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনাই উঠে আসতে শুরু করেছে।