NRS এ কুকুরদের হত্যা প্রসঙ্গে লিখছেন ডাঃ রেজাউল করিম

আনন্দবাজারের একজন সাংবাদিক আমাকে বলেছিলেন যে কুকুরকে যদি মানুষ কামড়ে দেয় তবে তা নিশ্চিত খবর। আনন্দবাজার আজ পাতা জোড়া খবর করে সংবাদপত্রের সত্যকে নতুন করে সামনে এনেছে। একদম বিদেশি ইস্টাইল, সংবেদনশীলতার পরাকাষ্ঠা, যেমনটি ইউরোপে দেখি- একদিকে চলছে ইয়েমেনে, উত্তর ইরাকে ট্রাম্পীয় হত্যালীলা অন্যদিকে একটি ডানা ভাঙা ডোডো পাখির জন্য গ্রিন জোন দিয়ে চলছে এম্বুল্যান্সের সারি। এই বিপরীত্য আছে বলেই না আমরা মানুষ! আমার মতের তুমি বিরোধী, আমার অনু পরিমান শরীরে পাহাড় প্রমান ইগো। সেই ইগোই তুমি আঘাত করেছো? ইউ সিজ টু এক্জিস্ট। সেই ইস্টাইল, সেই উচ্চ ধ্যান ধারনা, সেই পশুপ্রেম। দেশের ৩৬কোটি নিরন্ন মানুষ, লাখখানেক মরা কৃষকের জন্য দামী নিউজপ্রিন্ট খরচ হয় না। সাজগোজ করে থাকা নেতাদের নিত্য মিথ্যাচারের ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেওয়া হয় নানারকম বাজারি পণ্যের বিজ্ঞাপন। সেগুলো ক্লিশে নয়, সেগুলি অনেকটা কুকুরকে মানুষে কামড়ে দেবার মত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিশে হল ছোট জাতের মানুষের “স্বাভাবিক খুন, চাষীদের স্বাভাবিক আত্মহত্যা আর ডাক্তারদের স্বাভাবিক মার-খাওয়া”।
তবুও ঘুম ভেঙেছে, হাসপাতাল নিয়ে পাতা জোড়া খবর হয়েছে, হাসপাতাল নিয়ে ভাবছে ভাবতে ভাল লাগছে। অন্তত হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর আর মাথা ফাটানোর বিরুদ্ধে আমরা দুবছরে যা করতে পারি নি, এই কুকুর ছানাদের সুবাদে আনন্দবাজার তা করে দেখালো। এক সাথে সরকার, সরকার পরিবার আর পশুপ্রেমীদের ঘুম ভেঙেছে। যেসব ডাক্তারও তাদের বন্ধুদের মার খাওয়ার ঘটনায় শীতঘুমে থাকেন, তাদেরও চোখ অশ্রুসজল।

ভরতের ঝুমঝুমির মত মোদিজী কাল দশ শতাংশ সংরক্ষণ দান করেছেন। ঝুমঝুমির দণ্ড রয়ে গেছে ব্যক্তিগত পুঁজির হাতে, নুড়ি ঢোকানো গোল অংশটি জনগনের হাতে। দণ্ডপাণি ইচ্ছামত কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে চলে। গত বছরেই কয়েক মিলিয়ন মানুষের চাকুরি গেছে। এখন মাঝে মাঝে ঝুমঝুমির আওয়াজ শুনতে পাওয়া যাবে। কিন্তু সে আওয়াজে পেট ভরবে বলে মনে হয় না। 
মহাঋষি বাল্মীকির “মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতমঃ” এই শ্লোক আজকের প্রজন্মের আদর্শ শ্লোগান হতে পারে। আধুনিক নিষাদ এসেছে রাষ্ট্রীয় ছদ্মবেশে যারা সব ক্রৌঞ্চের অধিকার হরণ করে। তাদের প্রতিটি কর্মে নরনারী নির্বিশেষে মানুষের বেঁচে থাকাকে দুর্বিসহ করে তোলে। কখনো ধর্মের নামে জাতি বিদ্বেষ, কখনো জাতের নামে, কখনো দলের নামে তাদের যুগলাঞ্ছিত সংস্কার মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়। 
কুরুক্ষেত্র প্রস্তুত। একদিকে ক্রৌঞ্চমিথুন আরেক দিকে ছদ্মবেশী নিষাদ।

এই অবোধ কুকুরছানাদের প্রতি অন্যায় হামলায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। কিন্তু, তেমন জোরালো প্রতিবাদ করতে পারছি কই? যখন দরিদ্র ঋণগ্রস্ত কৃষক বলে বা ধর্মের নামে, ছোট জাতের নামে, অন্য দলের লোক বলে, ভিন্নমত পোষণ করে বলে বা ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য মানুষ খুন হয়, তখন যে ভয়ে গুটিয়ে থাকি!পশুদের দুঃখে মানুষ ছাড়া আর কে আন্দোলন করবে সেটা যেমন ঠিক তেমনি মানুষও তো পশুই, তাদের প্রতি অন্যায় হামলা হলে পশুপ্রেমীরা কেন চুপ করে থাকেন? 
আমার ট্যুইটার একাউন্ট বন্ধ। পশুপ্রেমী নেতানেত্রী বা তাদের “জুকিপার”দের ট্যুইট চোখে পড়ে নি, করতেও পারেন। কুকুর তো আর ডাক্তার নয়,শত হামলাতেও যে চুপ করে থেকে বাহবা পাওয়া যাবে।2 Comments7 Shares3939

Write a comment…View all 2 comments