একুশের আমরি বাংলা ভাষা! শুধুই কি অানুষ্ঠানিক?

0
81

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-আমি কি ভুলিতে পারি’সত্যিই কি মনে রেখেছি আমরা একুশে ফেব্রুয়ারিকে?এই দিনটা আসলে মনে পড়ে বাংলা ভাষাকে,মনে পড়ে বাংলা ভাষার আবেগকে,সেই আবেগ বিহ্বলতায় ভাযা শহিদদের নিয়ে বক্তৃতা হয়,মাল্যদান হয়,সবই তো আসলে আনুষ্ঠানিকতার অভ্যেস।আর তার পর আমরা যে যার মত ফিরে যাই আমাদের প্রত্যহিকতার ঘেরাটোপে,যেখানে বাংলা ভাষা সারা বছর ধরেই থেকে যায় দুয়োরাণি হয়ে।একটা বিশেষ দিন ছাড়া আর বাংলা ভাষাকে সম্মান জানানোর কথা মনে থাকে না কারোর।এ রাজ্যে বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলোর এখন পাততাড়ি গুটিয়ে নেওয়ার সময় এসে গেছে,ধূঁকছে প্রায় সমস্ত বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলো,সরকারের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।যে কোন সরকারি দপ্তরে সব কাজ এখনও ইংরেজিতেই।ব্যঙ্কে গেলে ইংরেজি ছাড়া কোন উপায় নেই।যে কোন সরকারি ফর্ম বা ফাইল সব কিছু লেখা হয় ইংরেজিতে।এ রাজ্যে যে কোন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে ইংরেজি না জানা এখনও নেতীবাচক প্রভাব ফেলে।বড় দোকান বাজার কোথাও বাংলা ভাষা রাজ ভাষা বলে স্বীকৃত নয়।তবু বছর ঘুরে একুশে ফেব্রুয়ারি আসে,আমাদের মনে পড়ে বাংলা ভাষার মর্যাদার কথা,ভাষা নিয়ে আবেগ উতলে উঠতে থাকে,আবেগ বিহ্বল এই আনুষ্ঠানিকতা পেড়িয়ে বাংলা ভাষাকে যতোদিন কাজ ও বাজারের উপযোগি করে তোলা না যাবে ততদিন বোধহয় বাংলা ভাষা তার মর্যাদা থেকে অনেক দূরেই থাকবে।শুধু একদিনের স্মরণ অনুষ্ঠান বাংলা ভাষাকেই শহিদ করে তোলার কৌশল কিনা তা নিয়ে বোধহয় ভাবার সময় এসে গেছে।বলার সময় এসেছে আমরা বাংলা ভাষাকে শহিদ দেখতে চাই না,আমরা চাই বাংলা ভাষা আমাদের দিন যাপনে জীবন্ত থাকুক,বাংলা ভাষা হয়ে উঠুক বাঙালির কর্মসংস্থানের অবলম্বনও।একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদদের সম্মান জানিয়ে বাংলা ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা কি নতুন কর্মসূচি নিতে প্রস্তুত?এই প্রশ্নের উত্তরের উপরেই নির্ভর করছে বাংলা নিয়ে আমাদের দরদের সত্যতা।